গ্রেফতারের একদিন পর চট্টগ্রাম কারাগারে যুবলীগ নেতার মৃত্যু, রহস্য নিয়ে প্রশ্ন
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস, চট্টগ্রাম | ২৪ জুন ২০২৬
গ্রেফতারের মাত্র একদিনের মাথায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নুরুল আলম নামে এক যুবলীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় সাতকানিয়া উপজেলার ঢেঁমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আলমকে। পরদিন বুধবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে কারা হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত নুরুল আলম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেঁমশা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং বাবর হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা ছিল বলে জানা গেছে।
কারা সূত্র জানিয়েছে, সকালে অসুস্থতার কথা জানালে দ্রুত তাকে চিকিৎসার আওতায় আনা হয়। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ বলেন, নুরুল আলম মঙ্গলবার কারাগারে প্রবেশ করেন।
বুধবার ভোরে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা জানান।
পরে তাকে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুসনদে শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পরিবারের সদস্যরা এই মৃত্যুকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না।
নুরুল আলমের বোন বকুল আক্তার অভিযোগ করেন, তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, মঙ্গলবার দুপুরে সাতকানিয়া থানার সামনে থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে আটক করে আদালতে পাঠায় এবং পরে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতারের পর অল্প সময়ের মধ্যে তার মৃত্যু হওয়ায় পরিবারের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই গ্রেফতারের পরপরই একজন রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুর ঘটনায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফজলে আজিম মোহাম্মদ নামে একজন লেখেন, নুরুল আলমকে একটি মামলায় গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সুস্থ একজন মানুষের হঠাৎ মৃত্যু কীভাবে ঘটল এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।নুরুল আলমের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিবার ও সহকর্মীরা ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করা হবে।