বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনা: ইরানের পতাকা বিক্রিতে পুলিশি বাধা; নেপথ্যে কি ভূ-রাজনৈতিক চাপ?
By নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৪ জুন, ২০২৬
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও এখন উৎসবের আমেজে ভাসছে। প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতে সমর্থকরা দেশি-বিদেশি পতাকায় নিজেদের রাঙিয়ে তুলছেন, আর এই সুযোগে রাস্তায় জমে উঠেছে পতাকার রমরমা ব্যবসা। কিন্তু এমন উৎসবের মাঝে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ইরানের পতাকা বিক্রিতে পুলিশি বাধার খবর সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
পতাকা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশের পতাকা তারা অবাধে বিক্রি করতে পারলেও, সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের ইরানের পতাকা বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বিক্রেতাদের তাদের প্রদর্শনী থেকে ইরানের পতাকা সরিয়ে ফেলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কেন এই বিধিনিষেধ?
এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে জনমনে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন দেশের সাথে ইরানের জটিল কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, স্থানীয় প্রশাসনের ওপর কি কোনো বৈদেশিক শক্তির প্রভাব কাজ করছে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ এই ঘটনাকে বৈশ্বিক শক্তির প্রভাব, বিশেষ করে আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি বা বাংলাদেশের ওপর কোনো কূটনৈতিক চাপের সাথে যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করছেন।
তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক মন্তব্যে যাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “বিশ্বকাপ চলাকালীন আমাদের মূল দায়িত্ব হলো জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা। আমরা যদি কোনো নির্দিষ্ট পণ্য সরিয়ে ফেলতে বলে থাকি, তবে তা কেবল সম্ভাব্য জনরোষ এড়াতে বা সংবেদনশীল এলাকায় সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার স্বার্থেই করা হয়েছে। এর সাথে বৈদেশিক ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের কোনো সম্পর্ক নেই।”
বিশেষজ্ঞদের মত
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্বকাপের সময় প্রিয় দলের পতাকা প্রদর্শন ফুটবলের সংস্কৃতি। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীক স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনার কারণ হতে পারে, তবে তারা ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে এমন পদক্ষেপ নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সরাসরি কোনো বিদেশি আধিপত্য বা কূটনৈতিক নির্দেশের ফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম; বরং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে এটি একটি স্থানীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
টুর্নামেন্ট যতই এগিয়ে যাচ্ছে, ফুটবল উন্মাদনা যেন কোনোভাবেই জনশৃঙ্খলার বিঘ্ন না ঘটায় সেদিকেই নজর দিচ্ছে প্রশাসন। তবে প্রশাসনের এই বাছাইকৃত বিধিনিষেধ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অপ্রয়োজনীয় জল্পনার জন্ম দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।