কোনো চাপের কাছে মাথা নত করিনি, ইরানের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি: পেজেশকিয়ান
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস | তেহরান, ১৮ জুন ২০২৬
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত ও পারস্পরিক হুমকি-পাল্টা হুমকির পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার পথে হাঁটল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার না করেই তেহরান আলোচনায় অংশ নিয়েছে এবং দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখেই চুক্তিতে পৌঁছেছে।
এক বিবৃতিতে পেজেশকিয়ান বলেন, “ইরানের জনগণের অধিকার, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা কখনো আপস করিনি। আলোচনার টেবিলে গিয়েছি শক্ত অবস্থান থেকে, দুর্বলতা থেকে নয়।”
সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীর উদ্যোগে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং কূটনৈতিক সংলাপ শুরু হয়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, এই সমঝোতা কোনো পক্ষের আত্মসমর্পণ নয়; বরং এটি কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের একটি বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “যুদ্ধ কখনোই স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। তবে শান্তির জন্য আলোচনা করতে গেলে নিজের মর্যাদা বিসর্জন দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।”
তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুক্তির আওতায় আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সংঘাত এড়াতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পারস্পরিক সমঝোতা হয়েছে। যদিও চুক্তির সব শর্ত প্রকাশ করা হয়নি, তবে উভয় পক্ষই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস, নিষেধাজ্ঞা, নিরাপত্তা ইস্যু এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে সমঝোতার পথ এখনো সহজ নয়।
এদিকে পেজেশকিয়ানের বক্তব্যকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো দেশের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। সরকার সমর্থকরা বলছেন, তেহরান তার অবস্থান থেকে একচুলও সরে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করেছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, “কোনো চাপের কাছে মাথা নত করিনি। ইরানের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছেছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, ইরান শান্তি চায়, কিন্তু সেই শান্তি অবশ্যই সম্মান, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।