হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ২২, ২০২৬

জলাবদ্ধতায় ডুবে রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ, খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত শতাধিক শিক্ষার্থী

By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস

f9ab903a-2746-4aae-b86f-8915c8a2a1e6

পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়ে রয়েছে। মাঠজুড়ে জমে থাকা পানি, কচুরিপানা ও আগাছার কারণে এটি এখন অনেকটা জলাশয়ের রূপ নিয়েছে।

ফলে বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী খেলাধুলা, শারীরিক শিক্ষা, সমাবেশ এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই মাঠে পানি জমে যায়।

পর্যাপ্ত ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সেই পানি দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে আটকে থাকে। ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ই মাঠটি ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে থাকে।

বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। মাঠজুড়ে পানি ও আগাছা ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা টিফিন বিরতির সময়ও সেখানে যেতে পারে না।অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সায়েম ফরাজী বলেন, “মাঠে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় আমরা খেলাধুলা করতে পারি না।

টিফিনের সময়ও মাঠ ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। এতে আমাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।”নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইমুন হোসেন বলেন, “বর্ষা মৌসুমে মাঠের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। পানি ও আগাছায় মাঠ ভরে থাকে। আমরা চাই দ্রুত জলাবদ্ধতা দূর করে মাঠটি খেলাধুলার উপযোগী করা হোক।”শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. সালাম ফরাজী বলেন, “খেলার মাঠ ব্যবহার করতে না পারায় শিশুরা দিন দিন মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।

দ্রুত মাঠ সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা জরুরি।”বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আর কে বাদল বলেন, “রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এ অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি জলাবদ্ধ থাকায় বর্তমান শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”

বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষক মো. আসরাফুল ইসলাম খান বলেন, “শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই।

কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের মাঠটি বর্তমানে খেলাধুলা, সমাবেশ এবং অন্যান্য শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।”

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, “মাঠের জলাবদ্ধতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।

পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং মাঠ সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে শিক্ষার্থীরা আবার স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা ও অন্যান্য কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে।

”এদিকে দ্রুত মাঠ সংস্কার এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। তাদের মতে, একটি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ কেবল বিনোদনের স্থান নয়; এটি শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সামাজিক দক্ষতা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে দ্রুত মাঠটি সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।