হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ১৭, ২০২৬

ইরানের বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও সেতুতে মার্কিন হামলা: জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে প্রতিশোধ নিল তেহরান

By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক:

12a38ea9-c979-48c8-b142-5280485e75f5

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে আরও ভয়াবহ রূপ নিয়ে। টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের ভূখণ্ডে বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতভর চালানো এই হামলায় দক্ষিণ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, রেলস্টেশন এবং দুটি প্রধান সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে অন্তত ৫ জন নিহত ও ৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, এই হামলার তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।

যেসব অবকাঠামো বিধ্বস্ত, পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে বিস্ফোরণ

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে হরমোজগান প্রদেশে সেতু লক্ষ্য করে মার্কিন হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছেন।

এছাড়া অন্যান্য অবকাঠামোতে হামলায় আরও ২ জনের মৃত্যু ও ৪ জন আহত হয়েছেন।

ভয়াবহতার মাত্রা এখানেই শেষ নয়; ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র সমৃদ্ধ বুশেহর শহরেও দুটি বড় ধরনের রহস্যময় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতেই তাদের এই হামলা।

হাসপাতালের কাছে মার্কিন আঘাত, ক্ষোভে ফুঁসছে ইরান

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজের একটি শিশু ক্যানসার হাসপাতালের পাশে ‘বর্বর’ হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

যদিও হামলার আশঙ্কায় হাসপাতালটি আগেই খালি করা হয়েছিল, তবে বিস্ফোরণের তীব্রতায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই মূলত জর্ডানের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ওমান উপসাগরে মার্কিন অ্যাকশন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের শীর্ষ সামরিক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ থাকবে।" গত জুনে ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এটি সাময়িকভাবে খোলা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরান তাদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে।

অন্যদিকে, ওমান উপসাগরে অবরোধ অমান্য করায় তিনটি জাহাজকে জোরপূর্বক অন্যত্র ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং একটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়ে সেনা মোতায়েন করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করার জন্য ইরানকে জবাবদিহি করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা সহ্য করা হবে না।

তটস্থ মার্কিন মিত্ররা, বাহরাইনে সাইরেন, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পারস্য উপসাগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জর্ডানে হামলার পর বাহরাইনেও বেজে উঠেছে বিমান হামলার সাইরেন। একই সঙ্গে যেকোনো সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা রুখে দিতে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে কুয়েত। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।