হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ১৭, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক সমঝোতা: মধ্যপ্রাচ্যে কি অবশেষে স্বস্তির সুবাতাস?

By বিশেষ প্রতিবেদন (বেঙ্গল টাইমস)

268e09c7-ec50-4734-9b20-8bbe09bf4758

​আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘদিনের চরম উত্তেজনা আর যুদ্ধংদেহী মনোভাব কাটিয়ে অবশেষে কি কিছুটা শান্ত হতে চলেছে মধ্যপ্রাচ্য? বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় আলোচনা এখন এটিই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া বা সমঝোতা স্মারক (MOU) চূড়ান্ত হওয়ার খবরটি বিশ্বজুড়ে তৈরি করেছে এক নতুন সমীকরণ। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

​তবে এই সুসংবাদের সমান্তরালে লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান পুরো প্রক্রিয়ার ওপর এক বড় ধরণের অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলছে।

​হড়মুজ প্রণালী ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি​ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এই চুক্তির তাৎপর্য অপরিসীম। চুক্তিটি কার্যকর হলে সাময়িকভাবে খুলে দেওয়া হচ্ছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ওড়মুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz)। বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের এক বিশাল অংশ এই রুট দিয়ে 

পরিবাহিত হয়। গত কয়েক মাসে এই অঞ্চলে উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছিল বিশ্ব অর্থনীতিতে। এই সমঝোতার খবরে ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে এবং তেলের দাম স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

​লেবানন সংকট: চুক্তির পথে বড় কাঁটা​উপরে শান্তি আলোচনার আবহ থাকলেও মাঠের চিত্র এখনো বেশ থমথমে। লেবাননে হেজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান এই ঐতিহাসিক চুক্তির সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানিয়েছেন যে, জেনেভায় চূড়ান্ত চুক্তিতে বসার আগেই লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। ইরানের এই অনমনীয় অবস্থান চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে।

​ট্রাম্পের ভিন্ন সুর ও ওয়াশিংটনের চাপ​এদিকে এই পুরো সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই লেবাননে 

হেজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি সামরিক কৌশলের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। 

একদিকে ওয়াশিংটন যখন ইরানের সাথে সমঝোতা করে বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে চাইছে, অন্যদিকে তখন ইসরায়েলের এই আগ্রাসী নীতি মার্কিন প্রশাসনকে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

​সামনে কী অপেক্ষা করছে?

​আগামী ১৯ জুনের জেনেভা বৈঠকের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব। ৬০ দিনের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি কি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথ দেখাবে, নাকি লেবানন সংকটের জেরে চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই তা ভেস্তে যাবে—তা সময়ই বলে দেবে। তবে বেঙ্গল টাইমসের বিশেষ বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি সফল হলে তা হবে চলতি দশকের অন্যতম সেরা কূটনৈতিক সাফল্য।