অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন গড়ে তুলতে লিঙ্গ-সংবেদনশীল নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশিক্ষণ, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাতিসংঘের উদ্যোগ
By কূটনৈতিক প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস, প্রকাশ: ০৭ জুলাই, ২০২৬
ঢাকা: বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক এবং লিঙ্গ-সংবেদনশীল করতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের জন্য দুই দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে জাতিসংঘের সংস্থা ইউএন উইমেন (UN Women)।
গত ১৯ ও ২০ জুন অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং ইলেক্টোরাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) ৩৫ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
‘Advancing Gender-Responsive Electoral Processes’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ছিল নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে নারীদের অংশগ্রহণ, সমঅধিকার এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনায় লিঙ্গ-সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি আরও শক্তিশালী করা।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি যোগ্য নাগরিক সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন হিসেবে আমরা এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা প্রতিটি যোগ্য নাগরিককে সমানভাবে সেবা দেবে।
এই লক্ষ্য অর্জনে কমিশনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিকদের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
”নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপ্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন।
এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকর সংলাপের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে নারী প্রার্থীর মনোনয়ন বৃদ্ধি এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী দলীয় কমিটিতে নারীদের ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ জোরদার করা।
এছাড়া নির্বাচন কমিশনের কর্মপরিবেশকে নারীবান্ধব করতে নারী কর্মকর্তাদের জন্য উপযোগী প্রশিক্ষণের সময়সূচি, ডে-কেয়ার সুবিধা, নিরাপদ যাতায়াত এবং কাউন্সেলিং সেবার ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ভুয়া তথ্য মোকাবিলা ও লিঙ্গ-সংবেদনশীলতা বৃদ্ধির আহ্বান
প্রশিক্ষণে নির্বাচনী সময় নারীদের বিরুদ্ধে লিঙ্গভিত্তিক বিভ্রান্তিকর তথ্য (মিসইনফরমেশন) ও অপপ্রচার (ডিসইনফরমেশন) প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, নারী-পুরুষভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ (Sex-disaggregated Data) আরও শক্তিশালী করা এবং নির্বাচন ব্যবস্থায় লিঙ্গ-সংবেদনশীল নীতিমালা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা আরও বলেন, নির্বাচনকে সবার জন্য সমান, সহজপ্রাপ্য ও অধিকারভিত্তিক করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করা জরুরি।
নিয়মিত প্রশিক্ষণের অঙ্গীকার
প্রশিক্ষণ শেষে নির্বাচন কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ের কর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য নিয়মিত লিঙ্গ-সংবেদনশীলতা ও সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চালুর বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এই প্রশিক্ষণটি জাতিসংঘের ইউএন ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম (DRIP/BALLOT)-এর আওতায় বাস্তবায়িত হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন ব্যবস্থায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বৈষম্য দূরীকরণ এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।