হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published আগস্ট ১৩, ২০২৬

বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টায় উদ্বেগ, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সতর্কবার্তা

By অনলাইন ডেস্ক, বেঙ্গল টাইমস

IMG_8947

আফগানিস্তানে আল-কায়েদার সাংগঠনিক সক্ষমতা ও কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশভিত্তিক আল-কায়েদার শাখা আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস) বড় আকারের ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেল গঠনের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে উঠে এসেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে।

বিশেষ করে বাংলাদেশে একিউআইএসের সাংগঠনিক সেল প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম গত ১০ আগস্ট প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত আল-কায়েদা ও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, একিউআইএস তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ছোট সাংগঠনিক কাঠামো ব্যবহার করছে। এসব সেলের মাধ্যমে অর্থ, রসদ ও অন্যান্য সহায়তার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশকেও সংগঠনটি ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল।

আল-কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখাটির কার্যক্রমের উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে ভারতের দিল্লির লাল কেল্লায় গত বছরের নভেম্বরের হামলার প্রসঙ্গও আনা হয়েছে। ওই ঘটনার সঙ্গে একিউআইএসের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একিউআইএস এখনো নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় পৃথকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তবে সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠীর কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। প্রতিবেদনে একিউআইএসের সঙ্গে ‘ইত্তিহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ (আইএমপি)-এর সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বান্নুতে ৯ মে একটি নিরাপত্তা চৌকির কাছে আত্মঘাতী হামলা ও বিস্ফোরকবোঝাই যান বিস্ফোরণের ঘটনাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ওই হামলায় ২১ জন নিহত হন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল-কায়েদার শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থান নিয়েও প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের মতে, সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে অবস্থান করছেন। তাদের কাছে তালেবান সরকারের দেওয়া ‘তাজকিরা’ বা পরিচয়পত্র থাকার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা এবং আন্তঃসীমান্ত হামলার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো। তালেবান সরকার পাকিস্তানভিত্তিক তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে সমর্থন করছে—এমন অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যদিও আফগান সরকার প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আফগানিস্তান-পাকিস্তান উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশে একিউআইএসের সম্ভাব্য সেল গঠনের বিষয়টি উল্লেখ করে জাতিসংঘের এই সতর্কতা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি করেছে।

তবে প্রতিবেদনে বাংলাদেশে সংগঠনটির সুনির্দিষ্ট কোনো সেল, সদস্যসংখ্যা বা কথিত কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।