হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ১২, ২০২৬

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের ঘোষণা জেলেনস্কির

By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস, ঢাকা | ১৩ জুলাই ২০২৬

IMG_8115

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্ভিরিদেনকো পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরকারে বড় ধরনের রদবদল এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনার কথা জানানোর পরপরই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন।

রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ইউলিয়া স্ভিরিদেনকো বলেন, “ইউক্রেনের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় ছিল।

এই সময়ে আমার সঙ্গে কাজ করা পুরো সরকারি দলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”এর আগে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের জন্য একটি নতুন ও পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং সরকারকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে মন্ত্রিসভার পুনর্গঠন জরুরি।জেলেনস্কি বলেন, “আমরা একমত হয়েছি যে পরিবর্তনের জন্য মন্ত্রিপরিষদের নবায়ন প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য আমি ইউলিয়া স্ভিরিদেনকোকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। একই সঙ্গে তাকে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছি।”মাত্র এক বছরেরও কম সময় ধরে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইউলিয়া স্ভিরিদেনকো।

২০২৫ সালের ১৭ জুলাই তিনি এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি দেনিস শ্মিহালের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন।

বর্তমানে শ্মিহাল সরকারের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।স্ভিরিদেনকোর পদত্যাগের পর ইউক্রেনের পার্লামেন্ট নতুন সরকারের অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত দেনিস শ্মিহাল ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া আরেকটি বার্তায় জেলেনস্কি ইউক্রেন সরকারের সামনে থাকা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) সদস্যপদ অর্জনের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন খাতে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।তিনি আরও জানান, এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সরকারে ব্যাপক পুনর্গঠন করা হবে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নতুন দায়িত্ব বণ্টনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যদিও এই আকস্মিক পরিবর্তনের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ইউক্রেনের সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার যেকোনও বড় ধরনের রদবদলের জন্য দেশটির পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি ব্যাপক সমর্থন বজায় রয়েছে। ফলে নতুন মন্ত্রিসভা অনুমোদনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য কোনো বাধা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।