হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ৬, ২০২৬

রাম মন্দিরে অনুদান চুরির অভিযোগে বিজেপিকে তোপ উদ্ধব ঠাকরের, ‘রাম রক্ষা আন্দোলন’-এর ডাক

By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস

IMG_7940

ভারতের অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান ও পূজার সামগ্রী চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে ইস্যু করে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে।

তিনি অভিযোগ করেছেন, ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে হিন্দুদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে এবং মন্দিরের সম্পদ লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার মুম্বাইয়ের দাদারে অবস্থিত হনুমান মন্দিরে ‘রাম রক্ষা স্তোত্র’ ও ‘হনুমান চালিশা’ পাঠের মাধ্যমে ‘রাম রক্ষা আন্দোলন’-এর সূচনা করেন উদ্ধব ঠাকরে। এ সময় তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে ধর্মীয় ঐক্য বজায় রেখে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে উদ্ধব বলেন, “যদি কেউ মনে করে হিন্দুদের আবেগকে ব্যবহার করে মন্দির লুট করবে, তাহলে হিন্দুরা তাদের কখনোই ক্ষমা করবে না।”

তিনি আরও বলেন, “রামের নাম ব্যবহার করে যারা লুটপাট করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি হিন্দুকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে।”বিজেপির সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে হিন্দুদের আবেগকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানো হয়েছে।

তাঁর ভাষায়, “হিন্দুদের সম্মোহিত করে তাদের বিশ্বাসকে ব্যবহার করা হচ্ছে, অথচ সেই বিশ্বাসের আড়ালেই চলছে লুটপাট।”শুধু অযোধ্যার রাম মন্দির নয়, উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ ও কেদারনাথ মন্দিরেও অনিয়ম ও চুরির অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে উদ্ধব ঠাকরে বলেন, “কেদারনাথ থেকে বদ্রীনাথ, আর সেখান থেকে অযোধ্যা—সব জায়গাতেই এই সরকার হিন্দুদের লুট করছে।”

তিনি ‘বিজেপিমুক্ত রাম’-এর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “রামের আদর্শকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না। রামের নামে যারা দুর্নীতি ও লুটপাট করছে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে জবাব দিতে হবে।”উদ্ধব ঠাকরের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রসহ ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় ইস্যুকে ঘিরে বিজেপি ও বিরোধী শিবসেনার মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে। তবে রাম মন্দিরে অনুদান ও পূজার সামগ্রী চুরির অভিযোগ এবং এ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও অবস্থানই শেষ পর্যন্ত বিষয়টির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করবে।