ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ধরতে গিয়ে হামলার শিকার দুই পুলিশ কর্মকর্তা, গুরুতর আহত এসআই রংপুরে
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস, লালমনিরহাট | ২৭ জুন ২০২৬
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে আটক করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযুক্ত ব্যক্তির ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তারা গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের গেন্দুকুড়ি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় হাতীবান্ধা থানার একটি দল। অভিযানের লক্ষ্য ছিল একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রাশেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা বাড়িতে পৌঁছালে অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রেপ্তার এড়াতে ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। এ সময় হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিনের হাতের কবজিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। হামলায় সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল লতিফও আহত হন।
হামলার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
চিকিৎসকরা জানান, এসআই রুহুল আমিনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়ায় শনিবার সকালে রংপুরের একটি বেসরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অপরদিকে এএসআই আব্দুল লতিফ চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থাও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের সময় অতর্কিত হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত কর্মকর্তার চিকিৎসার সার্বিক তদারকি করা হচ্ছে এবং তাঁর সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পর থেকে অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।