মুক্তিপণের টাকা নিতে এসে আটক এনসিপির দুই নেতা, ছাড়াতে গিয়ে গ্রেপ্তার আরও তিনজন
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস, দিনাজপুর | ৭ জুলাই ২০২৬
দিনাজপুরে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংশ্লিষ্ট দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় অপহৃত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়।
পরে আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে থানায় গিয়ে পুলিশের কাজে বাধা ও ধস্তাধস্তির অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।গ্রেপ্তাররা হলেন— জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন, এনসিপির দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য বলে পুলিশের দাবি করা হাসীন ইসরাক মিম (২২), মিনাজ (২৯), প্রেম (২২) ও হৃদয় ইসলাম (২২)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুর সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ (৫৮)-কে রোববার রাতে তার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তার পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পরে চার লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে তার ছেলে মো. মামুনকে সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়।
বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় একটি প্রাইভেটকার থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে আরিফ মুন ও হাসীন ইসরাক মিমকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এরপর আটক দুইজনকে থানায় নেওয়ার পর এনসিপি ও জাতীয় যুব শক্তির কয়েকজন নেতা-কর্মী তাদের মুক্তির দাবিতে থানায় যান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিনাজ, প্রেম ও হৃদয় ইসলামকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে অপহৃত আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচজনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পর সোমবার রাতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কোতোয়ালি থানার সামনে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে এনসিপি-সমর্থকদের থানা এলাকা থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরন্নবী বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, টাকা লেনদেন-সংক্রান্ত একটি বিষয় রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।”অন্যদিকে, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া হাসীন ইসরাক মিম জেলা কমিটির সদস্য নন। তিনি বলেন, “আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
কেউ অপরাধ করে থাকলে অবশ্যই তার শাস্তি হওয়া উচিত।”পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।