হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published আগস্ট ২, ২০২৬

১৩ কোটি টাকার সড়ক সংস্কার ১০ দিনেই বেহাল, বৃষ্টির মধ্যেই চলছে ফের জোড়াতালি

By নিজস্ব প্রতিনিধি, পটুয়াখালী | বেঙ্গল টাইমস

IMG_8587

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের সংস্কারকাজ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা সড়কের পিচ উঠে গিয়ে মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। ফলে স্বস্তির বদলে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। এরই মধ্যে বৃষ্টির মধ্যেই আবারও সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মেরামতকাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বারবার সংস্কার করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটি টেকসই হচ্ছে না। নিম্নমানের কাজ ও নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহারের কারণে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে বলে তাদের দাবি। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আলিফ পরিবহনের চালক মো. বেল্লাল হোসেন জানান, পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ গত জুন মাসে শেষ হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। পরে পুনরায় মেরামত করা হলেও মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে একই সমস্যা দেখা দিয়েছে।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কটি বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা অঞ্চলের আওতাধীন। ২০০০ সালে নির্মিত এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙন ও খানাখন্দ সমস্যায় ভুগছে। ২০১৮ সালেও আংশিক সংস্কার করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

পটুয়াখালী সেতুর টোল আদায় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মহাসড়কটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৯১২টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ বিপুলসংখ্যক ছোট যানবাহনের চাপ এবং দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

চলতি বছরের জুনের শুরুতে পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের উদ্যোগ নেয় পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৩ কোটি টাকা। গত ৩০ জুন কাজ শেষ হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যায় এবং নতুন করে গর্ত তৈরি হয়।

গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর পুনরায় সংস্কারকাজ শুরু করে সওজ। কিন্তু সেই মেরামতও টেকেনি। শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, শাখারিয়া থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে ইটের খোয়া বেরিয়ে এসেছে। বৃষ্টির মধ্যেই শ্রমিকদের সড়ক মেরামতের কাজ করতে দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মিথুন কর্মকার বলেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং দায়সারাভাবে কাজ করার কারণেই এত দ্রুত সড়কের ক্ষতি হয়েছে। তিনি কাজের মান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

যাত্রী নাজমুল আহসান ও রাশেমুল হাওলাদার বলেন, কয়েক দিন আগেই সংস্কারকাজ শেষ হতে দেখেছেন তারা। কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যে আবারও গর্ত তৈরি হওয়ায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন। কাজের মান বা পদ্ধতি নির্ধারণের দায়িত্ব তাদের নয়।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বৃষ্টির মধ্যেই সংস্কারকাজ চালানোর বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “ছোট অবস্থায় গর্তগুলো মেরামত না করলে পরে তা বড় আকার ধারণ করবে। তাই বৃষ্টি উপেক্ষা করেও কাজ করতে হচ্ছে।”

বৃষ্টির মধ্যে করা সংস্কারকাজ কতটা টেকসই হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কিছু করার নেই, এটি সরকারের চলমান রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের অংশ।”

এদিকে স্থানীয়দের দাবি,

জনগণের অর্থে পরিচালিত উন্নয়নকাজে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সড়কটির সংস্কারকাজের মান ও ব্যয়ের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত হওয়া জরুরি।

অন্যথায় একই সড়কে বারবার সংস্কারের নামে অর্থ অপচয় অব্যাহত থাকবে।