জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সামনে গায়ে আগুন, তিব্বতি আন্দোলনকারীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস, প্রকাশ: ৩ জুলাই, ২০২৬
নিউইয়র্ক: জাতিসংঘের সদরদপ্তরের সামনে গায়ে আগুন দেওয়ার পর এক তিব্বতি আন্দোলনকারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিব্বত ইস্যু আলোচনায় এসেছে।
তিব্বতি আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর দাবি, নিহত ব্যক্তির নাম লোবগা রাংজেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মাহুতির আগে তিনি চীন সরকারের প্রতি তিব্বতকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।দাবি।
আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর দাবি, জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে লোবগা রাংজেন তিব্বতের স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে বক্তব্য দেন।
এরপর তিনি নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয় বলে সংগঠনগুলোর
তবে এ ঘটনার বিষয়ে চীনা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দেওয়া ঘটনার বিবরণ এবং রাংজেনের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তিব্বতের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয়।
বিভিন্ন তিব্বতি অধিকার সংগঠনের অভিযোগ, অঞ্চলটিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় চর্চা এবং সাংস্কৃতিক অধিকারের ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে। অন্যদিকে, চীন সরকার এসব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তিব্বতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করা হয়েছে।বেইজিং তিব্বতকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং তিব্বতের স্বাধীনতার দাবিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখে।
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতেও তিব্বতি আন্দোলনকারীদের আত্মাহুতির ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে এলেও চীনা কর্তৃপক্ষ সেগুলোকে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করে থাকে।লোবগা রাংজেনের মৃত্যুর পর বিভিন্ন তিব্বতি সংগঠন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিব্বতের পরিস্থিতির দিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।