হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ১৯, ২০২৬

‘যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেওয়া হবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না’: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কঠোর হুঁশিয়ারি

By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস

07134199-f8e8-4f25-be7f-f76237a8f742

ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন এবং তার আঞ্চলিক মিত্রদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

তিনি বলেছেন, তেহরান এবং তার আঞ্চলিক ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ (রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট) যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এমন এক জবাব প্রস্তুত রেখেছে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বরাতে রোববার (১৯ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ট্রাম্পের স্বাক্ষর ‘মূল্যহীন ও অবৈধ’

শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি অভিযোগ করেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) যুক্তরাষ্ট্র বারবার লঙ্ঘন করেছে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন—

“মহাশয়তান (যুক্তরাষ্ট্র) আবারও তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। এতে প্রমাণিত হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই; সেটি সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবৈধ।

জুলুম, আধিপত্যবাদ এবং বর্বরতা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।”তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এই যুদ্ধকে উসকে দিচ্ছে এবং এর জন্য শেষ পর্যন্ত তাদের আরও বড় মূল্য ও অপমানের মুখোমুখি হতে হবে।

পাল্টা হামলার পরিধি বাড়াল ইরান

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো—সেতু, রেলপথ এবং সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র—লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর জবাবে ইরানও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাল্টা হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে।তেহরান দাবি করেছে, তারা বাহরাইন, কাতার ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সফল হামলা চালিয়েছে।

পাশাপাশি ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থানরত একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ অথবা যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট একটি বাণিজ্যিক জাহাজেও আঘাত হানার দাবি করেছে। এদিকে কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের হামলায় দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

লোহিত সাগর বন্ধের আশঙ্কা, বাড়ছে ট্রাম্পের ওপর চাপ

চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা যেকোনো সময় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নৌপথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাবে এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির নতুন ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে।

ইতোমধ্যে এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং দেশটির অর্থনীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে।

লোহিত সাগরের এই রুট বন্ধ হয়ে গেলে সামরিক অভিযান বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে।

শান্তি চুক্তির কার্যকারিতা শেষ

গত জুনে কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।কিন্তু পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগের পর সেই শান্তি উদ্যোগ কার্যত ভেঙে পড়েছে।

সর্বশেষ বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি দেশের জনগণকে সতর্ক, ঐক্যবদ্ধ ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাঁর ভাষায়, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘস্থায়ী ও আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।