হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ৩০, ২০২৬

প্রতিরোধের অগ্নিরূপ: বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রীর সৈনিকরা

By শঙ্খচিল

IMG_7669

বাংলাদেশ আজ এক গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই সময়কে ঘিরে নানা মত, পাল্টা মত, সংঘাত এবং বিভাজনের বাস্তবতায় দেশের রাজনীতি এক নতুন পরীক্ষার মুখোমুখি। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, দলটির নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক সহিংসতা, হয়রানি ও চাপের শিকার হচ্ছেন এবং এর লক্ষ্য দলটির সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করা।

কিন্তু আওয়ামী লীগের ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। এই দল বারবার প্রতিকূলতা, দমন-পীড়ন এবং সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, তবুও নিজেদের পুনর্গঠন করে আবারও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে এসেছে। এই ধারাবাহিকতার পেছনে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন এবং তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে ঘিরে গড়ে ওঠা দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির অধিকার, আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাবরণ এবং আত্মত্যাগ আজও আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। সেই কারণেই দলটির সমর্থকদের বিশ্বাস, ভয় বা প্রতিকূলতা কোনো আদর্শকে পরাজিত করতে পারে না।আওয়ামী লীগের ইতিহাসে ত্যাগের বহু অধ্যায় রয়েছে।

ভাষা আন্দোলন-পরবর্তী গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি অধ্যায়েই দলটির নেতাকর্মীরা নিজেদের সম্পৃক্ততার ইতিহাস তুলে ধরেন। এই ঐতিহ্যই বর্তমান প্রজন্মের কর্মীদের কাছে সংগ্রামের প্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হয়।

২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বেদনাদায়ক ঘটনা। ওই হামলায় শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং বহু নেতাকর্মী প্রাণ হারান। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের দৃষ্টিতে, সেই ঘটনা দলটির কর্মীদের আত্মত্যাগ ও নেতৃত্বের প্রতি অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।দলটির প্রবীণ নেতৃত্বও এই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জিল্লুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আব্দুল জলিল, মোহাম্মদ নাসিম, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আমির হোসেন আমু, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ বহু নেতা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলীয় আদর্শ ও সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার আওয়ামী লীগের কর্মীদের কাছে এখনও অনুপ্রেরণার উৎস।

একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীরাও নিজেদের সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখেন। তাঁদের বিশ্বাস, আদর্শভিত্তিক রাজনীতি কখনও কেবল ক্ষমতার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করে।

আওয়ামী লীগকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক পরিচয় ও আবেগ কাজ করে। তাঁদের মতে, দলটির শক্তি কেবল নেতৃত্বে নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও রাজনৈতিক বিশ্বাসে নিহিত।

আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন সহিংসতা, প্রতিহিংসা বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকে না যায়—সেই প্রত্যাশা সবার।

রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও আইনের শাসন, সহনশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি হওয়া উচিত।ইতিহাসের প্রতিটি কঠিন সময়ে যেমন রাজনৈতিক শক্তিগুলো নতুন করে নিজেদের মূল্যায়ন করেছে, তেমনি বর্তমান সময়ও ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। যে আদর্শই অনুসরণ করা হোক না কেন, একটি শক্তিশালী, শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত সকল রাজনৈতিক শক্তির অভিন্ন লক্ষ্য।