হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ২৮, ২০২৬

চেতনার অনির্বান আলো বনাম অন্ধকারের রাজনীতি: কার স্বার্থে নিভল শিখা চিরন্তন?

By শঙ্খচিল

IMG_7606

১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতা গ্রহণের পরই তিনি উদ্যোগ নেন স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী (২৫ বছর পূর্তি) রাষ্ট্রীয়ভাবে মহাসমারোহে উদযাপন করার। এরই অংশ হিসেবে ১৯৯৭ সালের ২৬শে মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘শিখা চিরন্তন’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর পেছনে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার মূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল, দীর্ঘ ২১ বছর ধরে যে ইতিহাস বিকৃতি চলছিল, তা রুখে দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মের সামনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রকৃত ঐতিহাসিক গুরুত্ব সগৌরবে ফিরিয়ে আনা।

১৯৯৭ সালের ২৬শে মার্চ। স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীতে তৎকালীন ও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জ্বালিয়েছিলেন ‘শিখা চিরন্তন’। নেলসন ম্যান্ডেলা, ইয়াসির আরাফাতের মতো বিশ্বনেতারা সেদিন উপস্থিত থেকে স্যালুট জানিয়েছিলেন বাঙালির এই অবিনশ্বর চেতনাকে। 

স্থানটি কোনো সাধারণ উদ্যান নয় এটি সেই পবিত্র ভূমি যেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তাঁর বজ্রকণ্ঠে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, এবং যেখানে ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল। গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে যে আগুন একটি মুহূর্তের জন্যও নেভেনি, আজ তা নিভে যাওয়া বা নিভিয়ে দেওয়া কেবল একটি কারিগরি ত্রুটি নয়,এটি আমাদের স্বাধীনতার মহাকাব্যের ওপর এক চরম আঘাত।

আওয়ামী লীগের অবদানকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা: আওয়ামী লীগ মানেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা, আওয়ামী লীগ মানেই মুক্তিযুদ্ধের মূল ধারা। আর এই সত্যটিকে যারা মানসিকভাবে মেনে নিতে পারে না, তাদের রাজনৈতিক আক্রোশ সবসময়ই থাকে মুক্তিযুদ্ধের স্মারকগুলোর ওপর। ‘শিখা চিরন্তন’ আওয়ামী লীগ সরকারের একটি ঐতিহাসিক কীর্তি, যা নতুন প্রজন্মকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দিত আমাদের বীরত্বের কথা।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা প্রশাসনিক উদাসীনতার অজুহাতে এই শিখা নিভিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো—বাঙালির মন থেকে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ও ঐতিহাসিক অবদানকে জোরপূর্বক মুছে ফেলার একটি ব্যর্থ চেষ্টা।

পরাজিত শক্তির মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা: স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি সবসময়ই চেয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই ঐতিহাসিক গুরুত্বকে হালকা করতে।

অতীতেও এই উদ্যানের গাছ কেটে কফি শাপ বানানোর বা এর পবিত্রতা নষ্ট করার চেষ্টা আমরা দেখেছি। আজ যখন ‘শিখা চিরন্তন’ নিভে যায়, তখন স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, তবে কি প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেই পরাজিত শক্তির দোসররাই পরিকল্পিতভাবে এই অন্ধকারের রাজত্ব কায়েম করতে চাইছে? এটি কি তবে সেই অপশক্তিরই সুপ্ত উল্লাস, যারা একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চায় বাঙালির চেতনার স্মারকে আঘাত হেনে?

চেতনার বাতিঘর বন্ধ করার চক্রান্ত: এই অনির্বাণ শিখা ছিল স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ। আওয়ামী লীগ সরকার যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করেছে, এই শিখা তখন আরও উজ্জ্বল হয়ে জ্বলেছে। আজ সেই আলো নিভিয়ে দিয়ে মূলত তরুণ প্রজন্মের মন থেকে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং প্রতিরোধের আগুনকে স্তিমিত করার একটি সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত চলছে।

শিখা প্রজ্জ্বলন:

শেখ হাসিনা যখন শিখা চিরন্তনের বোতাম চেপে অনির্বাণ আলোটি জ্বালিয়ে দেন, তখন পাশে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা এবং ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত সেই অগ্নিশিখাকে স্যালুট জানান।  বিশ্বনেতাদের বক্তব্য: সেদিন নেলসন ম্যান্ডেলা তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, "আমি এখানে এসেছি বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষকে স্যালুট জানাতে, যারা অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে।"  ইয়াসির আরাফাত বলেছিলেন, "এই শিখা কেবল বাংলাদেশের নয়, এটি সারা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের মুক্তির আলো।"​​"আজ যারা অবহেলা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে 'শিখা চিরন্তন' নিভিয়ে দেওয়ার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছেন, তারা হয়তো ভুলেই গেছেন এর পেছনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এটি কেবল একটি সাধারণ স্মারক নয়। ১৯৯৭ সালের ২৬শে মার্চ, স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা যখন এই অনির্বাণ শিখা জ্বালিয়েছিলেন, তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে এটিকে স্যালুট জানিয়েছিলেন বিশ্বরাজনীতির দুই মহানায়ক—নেলসন ম্যান্ডেলা এবং ইয়াসির আরাফাত। বিশ্বনেতাদের সেই স্যালুট ছিল বাঙালির বীরত্ব ও আত্মত্যাগের প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। যে আলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে পবিত্র হয়েছিল, আজ স্বাধীন দেশে কোন শক্তির ইশারায় সেই আলো নিভিয়ে অন্ধকার ডেকে আনা হচ্ছে? এই প্রশ্নের জবাব রাষ্ট্রকে দিতেই হবে।"আগুন নেভানো যায়, চেতনা নয়:যারা মনে করছেন একটি গ্যাস বার্নার বন্ধ করে দিয়ে বা অবহেলার নাটক সাজিয়ে বাঙালির হৃদয় থেকে বঙ্গবন্ধুকে, আওয়ামী লীগকে কিংবা মহান মুক্তিযুদ্ধকে মুছে দেওয়া যাবে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। ‘শিখা চিরন্তন’ কেবল একটি বাহ্যিক অগ্নিশিখা নয়; এটি ৩০ লাখ শহীদের রক্তে ভেজা লাল-সবুজ পতাকার ভেতরের শক্তি। আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক তথা এদেশের কোটি কোটি দেশপ্রেমিক জনতা এই অন্ধকারের রাজনীতিকে সফল হতে দেবে না। অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই অনির্বাণ শিখা আবার জ্বালিয়ে দিতে হবে। যদি তা না করা হয়, তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই আলো নেভানোর অপচেষ্টাকারীরাই একদিন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে, কিন্তু বাঙালির চেতনার আলো চিরকাল অনির্বাণ থাকবে।