হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ২৩, ২০২৬

আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: ইতিহাস ও ভবিষ্যতের ভাবনা

By অধ্যাপক ড. শবনম জাহান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

IMG_7337

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালে দলটি তার ৭৭ বছর পূর্ণ করেছে। এই দীর্ঘ পথচলা দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

পূর্ব বাংলার মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের জন্ম। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ঐতিহাসিক পর্বে আওয়ামী লীগের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ লাভ করে।

১৯৭৫ সালের পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন ও পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কঠিন রাজনৈতিক সময়ে তিনি দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করে সংগঠনকে শক্তিশালী করেন, তৃণমূল পর্যায়ে পুনরায় সক্রিয় করেন এবং জাতীয় রাজনীতিতে দলের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নেতৃত্বকে দলের পুনর্জাগরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে শেখ হাসিনা দলের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। সমর্থকদের মতে, তাঁর নেতৃত্বে দলের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জাতীয় উন্নয়ন ও নীতি প্রণয়নে দলের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে, অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও সংকট মোকাবিলা করে এগিয়ে গেছে। আন্দোলন, সংগ্রাম এবং জাতীয় সংকটের মধ্য দিয়েও দলটি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে টিকে রয়েছে।

বর্তমান সময়ে দলটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার এবং প্রযুক্তি খাতে অগ্রগতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে আলোচিত। সমর্থকরা এসব অর্জনকে দলের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বিশেষ করে সরকার পরিচালনার সময় বাস্তবায়িত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।

৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আওয়ামী লীগের সকল নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের সব রাজনৈতিক শক্তির প্রতি প্রত্যাশা থাকে যে তারা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং জনগণের সেবায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি উদযাপন নয়; এটি অতীতকে মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থকে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে রাখা প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগের ৭৭ বছর পূর্তিতে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশা করা যায়, যেখানে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং জনগণের কল্যাণ হবে সবার অভিন্ন লক্ষ্য। এই প্রত্যাশাই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।