রাজধানীতে বকেয়া ১ হাজার টাকা বাসাভাড়া নিয়ে বিরোধ, ভাড়াটিয়াকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে মর্মান্তিক ঘটনা; দুই অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক
ঢাকা: রাজধানীর আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে বকেয়া মাত্র ১ হাজার টাকা বাসাভাড়া পরিশোধে বিলম্বকে কেন্দ্র করে এক ভাড়াটিয়াকে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) ভোরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ মূল অভিযুক্ত হিসেবে দুজনকে আটক করেছে।নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ স্বপন (৬০)।
তিনি তার ভাই রাজা মোহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের ৪ নম্বর ভবনের ৮১ নম্বর ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। পুলিশ ও স্বজনদের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ফ্ল্যাটের দায়িত্বে থাকা রিজভী ও তার চাচাতো ভাই রোহান বকেয়া ১ হাজার টাকা বাসাভাড়া আদায়ের জন্য ভোররাতে ওই বাসায় যান।
এ সময় নিহতের ভাই রাজা মোহাম্মদ সেলিম তাদের দু-একদিন সময় দেওয়ার অনুরোধ করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং অভিযোগ রয়েছে, রিজভী ও রোহান মোহাম্মদ স্বপনকে কিল-ঘুষি ও মারধর করেন।
এতে তিনি বুকে ও মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।পরবর্তীতে অভিযুক্তরাই স্বপনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত রিজভী ও রোহানকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।এ ঘটনায় লালবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, সামান্য বকেয়া বাসাভাড়াকে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনেকেই বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়া বিরোধ আইনগতভাবে নিষ্পত্তি এবং এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচিত হবেন।