হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published মে ১৮, ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতীকী প্রতিবাদহামের ভয়াবহতায় শিশু মৃত্যুর বিচার দাবি, টিকা সংকট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন

By স্টাফ রিপোর্টার  

2A888AA2-C82F-4DF6-9C47-FA6FFCEA4D85

চট্টগ্রাম, ১৮ মে ২০২৬:

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিচারের দাবিতে এক ব্যতিক্রমধর্মী প্রতীকী প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা সাদা কাপড়ে মোড়ানো প্রতীকী “লাশ” মাটিতে শায়িত রেখে দেশের চলমান টিকা সংকট ও শিশু মৃত্যুর বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরেন।

প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, টিকা ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, সরবরাহ সংকট এবং স্বাস্থ্য খাতে নীতিগত ব্যর্থতার কারণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি জানান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫৮টির বেশি জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং শতাধিক শিশুর মৃত্যুর তথ্য উঠে এসেছে। WHO জানায়, অধিকাংশ আক্রান্ত শিশু ছিল টিকাবঞ্চিত বা আংশিক টিকাপ্রাপ্ত।  

দেশের বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে, গত কয়েক বছরে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে (EPI) ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়া, টিকা সংগ্রহে বিলম্ব এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। কিছু সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহল অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময়কার সিদ্ধান্ত ও নীতিকে দায়ী করলেও, এ বিষয়ে সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো সম্পন্ন হয়নি।  

প্রতিবাদকারীরা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার টিকাদান কার্যক্রমের কথাও স্মরণ করেন। তারা দাবি করেন, সে সময়ে দেশের বিস্তৃত টিকাদান নেটওয়ার্ক কার্যকর ছিল এবং শিশুদের নিয়মিত টিকা কার্যক্রম অনেক বেশি স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের টিকাদানে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (GAVI) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে “Vaccine Hero” পুরস্কারে ভূষিত করে।  

GAVI তখন বলেছিল, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ টিকাদান কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে এবং শিশুস্বাস্থ্যে বৈশ্বিকভাবে একটি উদাহরণ তৈরি করে।

প্রতীকী প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশুদের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। টিকার অভাব ও অব্যবস্থাপনার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত গণটিকাদান, গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নিয়মিত টিকা কর্মসূচি পুনরুদ্ধার ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে। 

 WHO ও ইউনিসেফ ইতোমধ্যে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।