সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলম প্রত্যাহার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত
By স্টাফ রিপোর্টার, বেঙ্গল টাইমস, ঢাকা, ২১ জুন ২০২৬
সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করেছে সরকার। রবিবার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তবে প্রজ্ঞাপনে তার প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে প্রশাসনিক মহলে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পরিবেশ ও ভূমি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পর্যালোচনা চলছিল। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
মাত্র ১০ মাসের মাথায় দায়িত্ব থেকে সরানো হলো
মো. সারওয়ার আলম ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৫ সালের আগস্টে সিলেটে বহুল আলোচিত সাদা পাথর ও পাথর লুটের ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে তৎকালীন ডিসিকে অপসারণের পর সারওয়ার আলমকে সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটন খাতের বিকাশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে জাফলং, ভোলাগঞ্জ ও সাদা পাথর এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন।
আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট থেকে জেলা প্রশাসক
২৭তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম ২০০৮ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি ভেজালবিরোধী অভিযান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন। একসময় র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শতাধিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন।
প্রশাসনিক জীবনে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও মাঠ প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের পর তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দায়িত্ব পালনকালে আলোচনায় ও সমালোচনায়
সিলেটে দায়িত্ব পালনের সময় পরিবেশ সংরক্ষণ, অবৈধ পাথর উত্তোলন রোধ এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন সারওয়ার আলম। চলতি বছরের মার্চে মাত্র ২০ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পারায় কারাবন্দি এক ব্যক্তির মুক্তির ব্যবস্থা করে তিনি মানবিক উদ্যোগের জন্য প্রশংসিত হন।
তবে দায়িত্ব পালনকালে কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্কের মুখোমুখি হন তিনি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠয় সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছিল।
সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। প্রশাসনের দায়িত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শিগগিরই নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে হঠাৎ এ প্রত্যাহারের
সিদ্ধান্তে সিলেটের
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক
অঙ্গনে ব্যাপক
কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে কারণ উল্লেখ না থাকায় এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনাও বাড়ছে। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও রদবদলের অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত হয়ে থাকতে পারে।