হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ২, ২০২৬

সুন্দরবনে টেকসই পর্যটনে সুইডিশ প্রযুক্তির নতুন উদ্যোগ, সৌরচালিত ইকো-ট্যুরিজমে অংশীদারত্ব

By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস

IMG_7733

ঢাকা: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন ও ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটন বিকাশে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের ইউনিসল গ্রুপ এবং সুইডেনের সৌরপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মিডসামার (Midsummer)-এর মধ্যে একটি অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সম্প্রতি আয়োজিত “Building a Sustainable Future for Sundarban” শীর্ষক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের নতুন ইকো-ট্যুরিজম জাহাজ এম.ভি. মালঙ্গিতে।অনুষ্ঠানে ইউনিসল গ্রুপ আনুষ্ঠানিকভাবে মিডসামারের সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মাধ্যমে সুইডিশ সৌরপ্রযুক্তি বাংলাদেশে আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এম.ভি. মালঙ্গি জাহাজে সুইডিশ প্রতিষ্ঠান মিডসামারের তৈরি হালকা ওজনের সৌর প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। এসব সৌর প্যানেল পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শব্দদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করবে, যা সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল পরিবেশে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তারা বলেন, সুন্দরবন শুধু বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনই নয়, এটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ অসংখ্য বিরল প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল। একই সঙ্গে এ বনাঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষের জীবিকা। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি সুন্দরবনকে বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করেছে।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের সুন্দরবন, কক্সবাজারের বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত এবং চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল আন্তর্জাতিক পর্যটনের জন্য ব্যাপক সম্ভাবনাময়। তবে পরিবেশের ক্ষতি না করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করেই পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার এবং টেকসই পর্যটনই ভবিষ্যতের পথ। এ ধরনের উদ্যোগে অংশীদার হতে পেরে সুইডেন গর্বিত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সংরক্ষণের পাশাপাশি টেকসই পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।