জরিপে চমক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ৮ জন তরুণের একজন হামাসকে ইতিবাচকভাবে দেখেন, ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমার ইঙ্গিত
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বেঙ্গল টাইমস | ১১ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে জনমতের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে নতুন এক জনমত জরিপে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই জরিপে দেখা গেছে, ৩০ বছরের কম বয়সী প্রতি আটজন মার্কিন তরুণের একজন হামাসের প্রতি অনুকূল বা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।
একই সঙ্গে জরিপটি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি জনসমর্থন ধীরে ধীরে কমছে এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে জনমত আগের তুলনায় আরও বিভক্ত হয়ে উঠছে।
জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Rasmussen Reports, যা প্রকাশ করেছে The Times of Israel।জরিপ অনুযায়ী, ৩০ বছরের কম বয়সী মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে প্রায় ১২ শতাংশ—অর্থাৎ প্রতি আটজনের একজন—হামাস সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য-প্রচার, মানবিক সংকট এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রভাব তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতামত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মুসলিম উত্তরদাতাদের মধ্যে হামাসের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব সবচেয়ে বেশি। জরিপে অংশ নেওয়া মুসলিমদের ৪৪ শতাংশ হামাস সম্পর্কে অনুকূল মতামত দিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৭ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, ইহুদি উত্তরদাতাদের মধ্যে হামাসের প্রতি সমর্থন সবচেয়ে কম। মাত্র ২ শতাংশ ইহুদি উত্তরদাতা হামাসকে ইতিবাচকভাবে দেখেন বলে জানিয়েছেন। একইভাবে শ্বেতাঙ্গ ইভানজেলিক্যাল প্রোটেস্ট্যান্টদের মধ্যে এ হার ৪ শতাংশ।
জরিপে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি জনসমর্থন আগের তুলনায় কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যদিও দেশটির সামগ্রিক জনমতের একটি বড় অংশ এখনও ইসরায়েলের নিরাপত্তার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানায়, তবে বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের মানবিক পরিস্থিতি এবং গাজায় যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে ব্যাপক বিক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার দাবি জানিয়ে আন্দোলন করেছেন, আবার অন্যদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও জিম্মিদের মুক্তির দাবিতেও বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসব ঘটনার প্রভাব জনমতের ওপরও প্রতিফলিত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন তরুণদের তথ্য গ্রহণের অন্যতম প্রধান উৎস হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংঘাত সম্পর্কিত বিভিন্ন বর্ণনা ও প্রচারণা তাদের মতামত গঠনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক আদর্শ, ধর্মীয় পরিচয়, মানবাধিকার বিষয়ক উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানও জনমতের পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে।
তবে জরিপের ফলাফলকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।
কারণ, যেকোনো জনমত জরিপের ফলাফল ব্যবহৃত নমুনা, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, প্রশ্নের ভাষা এবং পরিসংখ্যানগত ত্রুটির সীমার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। এ কারণে একটি একক জরিপকে সামগ্রিক জনমতের চূড়ান্ত প্রতিফলন হিসেবে দেখা উচিত নয়।উল্লেখ্য, হামাসকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা,
জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশ ও সংস্থা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
সূত্র: The Times of Israel