গোপালগঞ্জে রাষ্ট্রীয় তাণ্ডব ও বর্বরোচিত নির্যাতন: শহীদদের রক্তে রঞ্জিত ১৬ জুলাই
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক | ১৬ জুলাই ২০২৫
গোপালগঞ্জ: দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৬ জুলাই আবারও এক কলঙ্কজনক ও বেদনাবিধুর তারিখ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল। ২০০৭ সালের ১/১১-এর রাজনৈতিক নিপীড়নের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে, ২০২৫ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের মাটিতে নেমে আসে এক ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় তাণ্ডব।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং তথাকথিত জুলাই বিপ্লবের সমন্বয়কদের সরাসরি উসকানিতে চালানো এই অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত পাঁচজন সাধারণ নাগরিক।
সেই সাথে অভিযোগ উঠেছে নারীদের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের।
অবরুদ্ধ গোপালগঞ্জ: পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার যে নীলনকশা তৈরি হয়েছিল, ১৬ জুলাই তা এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
সমন্বয়কদের নেতৃত্বে গোপালগঞ্জকে একটি ‘অবরুদ্ধ ও ত্রাসের জনপদ’-এ পরিণত করতে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেদিন পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একাংশকে লেলিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
শহীদদের পরিচয় ও আত্মত্যাগবর্বরোচিত এই হামলায় সেদিন রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়। নিহতের তালিকায় রয়েছেন কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষ:
রমজান মুন্সী: থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও রিকশাচালক। দীপ্ত সাহা: উদয়ন রোডের পোশাক ব্যবসায়ী। রমজান কাজী: কোটালীপাড়ার টাইলস মিস্ত্রির সহকারী।
ইমন তালুকদার: ক্রোকারিজ দোকানের কর্মচারী।
সোহেল মোল্লা: টুঙ্গীপাড়ার মোবাইল যন্ত্রাংশের দোকানি।
এ ছাড়াও আহত হয়েছেন শত শত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
নারী নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্রপ্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সেদিন নারীদের ওপরও চালানো হয়েছে অমানবিক নির্যাতন।
ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি নারী নেত্রী ও সাধারণ গৃহবধূদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন,
প্রতিবাদী নারীদের দমাতে যৌথ বাহিনী চরম অশালীন ও বর্বরোচিত আচরণের আশ্রয় নেয়, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
তৃণমূলের পাল্টা হুংকাররাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মুখেও গোপালগঞ্জের তৃণমূল কর্মীরা মাঠ ছাড়েননি। নেতাকর্মীদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন কেবল জনমনে ক্ষোভই সৃষ্টি করেনি, বরং দলকে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা জুগিয়েছে। দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা জানান, "রক্তের দাগ কখনো মুছে ফেলা যায় না।
শহীদদের আত্মত্যাগ এবং মা-বোনদের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।"রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান সরকারের এই ধরনের দমনমূলক নীতি দেশের গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। গোপালগঞ্জের এই ট্র্যাজেডি আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।