স্যার কিয়ের স্টারমারের পদত্যাগ: ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে অ্যান্ডি বার্নহাম।
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস, ঢাকা | ৯ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিতে নতুন নেতা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাবেক গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামই দলীয় নেতৃত্বের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
এখন পর্যন্ত তিনি একমাত্র আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হিসেবে সামনে এসেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় কোনো অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন না ঘটলে চলতি জুলাই মাসের শেষ দিকেই লেবার পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন বার্নহাম।
সে ক্ষেত্রে তিনি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করবেন নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে।সম্প্রতি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে পুনরায় পার্লামেন্টে ফিরে আসার পর থেকেই বার্নহামকে ঘিরে লেবার পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। দলের ভেতরে তার গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে অন্যতম শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, ৯ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত এমপিরা নেতৃত্বের জন্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবেন। তবে প্রার্থী হওয়ার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে—
* লেবার পার্টির ৪০৩ জন এমপির অন্তত ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ন্যূনতম ৮১ জন এমপির সমর্থন।
* দল-সংশ্লিষ্ট ৩১টি সমাজতান্ত্রিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত তিনটির মনোনয়ন অথবা কনস্টিটুয়েন্সি লেবার পার্টির (সিএলপি) অন্তত ৫ শতাংশের সমর্থন।
* ট্রেড ইউনিয়নের মনোনয়নের ক্ষেত্রে অনুমোদিত সদস্যসংখ্যার অন্তত ৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্বসহ কমপক্ষে দুটি বড় ইউনিয়নের সমর্থন।
একক প্রার্থী হলে কী হবে
এখন পর্যন্ত অ্যান্ডি বার্নহামের বিরুদ্ধে কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী সামনে আসেননি। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচিত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ইতোমধ্যে বার্নহামকে সমর্থন জানিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
যদি ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে বার্নহাম প্রয়োজনীয় সংখ্যক এমপির সমর্থন নিশ্চিত করতে পারেন এবং আর কোনো প্রার্থী যোগ্যতা অর্জন করতে না পারেন, তাহলে ১৭ জুলাই তাকে লেবার পার্টির নতুন নেতা ঘোষণা করা হতে পারে।
এরপর ২০ জুলাই বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। পরে রাজা নতুন সরকার গঠনের জন্য অ্যান্ডি বার্নহামকে আমন্ত্রণ জানালে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী এলে পরিবর্তন হতে পারে সময়সূচি
তবে ১৫ জুলাইয়ের আগে যদি অন্য কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেন, তাহলে নেতৃত্ব নির্বাচন আরও দীর্ঘায়িত হবে।
সে ক্ষেত্রে ১৬ জুলাই থেকে পার্লামেন্টের গ্রীষ্মকালীন বিরতির সময় নির্বাচন প্রক্রিয়া চলবে। ৬ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত দলীয় সদস্য ও ট্রেড ইউনিয়নের ভোট গ্রহণ শেষে ২৯ আগস্ট ফলাফল ঘোষণা করা হবে। নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্যার কিয়ের স্টারমার অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও অ্যান্ডি বার্নহাম ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই আগাম সাধারণ নির্বাচন দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন না।
বরং ২০২৪ সালের লেবার পার্টির নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তিতেই সরকার পরিচালনা অব্যাহত রাখার পক্ষে তিনি মত দিয়েছেন।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে সরকার গঠন করে। বর্তমান আইন অনুযায়ী পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে তেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস এবং ঋষি সুনাকও একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
বেঙ্গল টাইমস বিশ্লেষণ: বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি ও কূটনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে সম্ভাব্য এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈদেশিক সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সে বিষয়ে নিবিড় নজর রাখছে বেঙ্গল টাইমস।