হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published আগস্ট ২, ২০২৬

শেখ হাসিনার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি ৫ আগস্টদিল্লিতে ভার্চুয়াল বক্তব্যে রাজনৈতিক রোডম্যাপ ও দেশে ফেরার পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী

By স্টাফ রিপোর্টার | বেঙ্গল টাইমস

IMG_8599

ঢাকা: ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতা ছাড়ার পর প্রথমবারের মতো ভারতে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। আগামী ৫ আগস্ট ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস’ ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (FCC South Asia) আয়োজিত এক বিশেষ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটি হবে শেখ হাসিনার ভারতে প্রথম প্রকাশ্য মিডিয়া উপস্থিতি। এতদিন তিনি বিভিন্ন সময়ে লিখিত বিবৃতি বা ভার্চুয়াল বার্তা দিলেও কোনো উন্মুক্ত সংবাদভিত্তিক অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। ফলে ৫ আগস্টের এই আয়োজনকে ঘিরে বাংলাদেশ, ভারত এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। 

অনুষ্ঠিটির শিরোনাম “Sheikh Hasina’s Homecoming”। প্রকাশিত আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, এটি অনুষ্ঠিত হবে নয়াদিল্লির স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন এবং তাঁর বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে ক্লাবটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। 

অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু ওবায়দা আরিন, সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ এবং মানবাধিকারকর্মীসহ আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির। 

আয়োজকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতা, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এবং শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে আলোচনা হবে অনুষ্ঠানে। 

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপন্থা, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দেশে ফিরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সম্ভাব্য রূপরেখা তুলে ধরতে পারেন। যদিও তাঁর বক্তব্যের পূর্ণ বিষয়বস্তু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

এই আয়োজনের সময়ও বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ৫ আগস্ট দিনটিই ২০২৪ সালের সেই রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্ষিকী, যেদিন ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি ভারত সফরে যান। ফলে ওই দিনেই তাঁর প্রকাশ্য বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। 

সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনা একাধিক বক্তব্যে বাংলাদেশে ফিরে আসার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি দেশে ফিরে রাজনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সময়সূচি বা পদ্ধতি সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। 

এদিকে ৫ আগস্টের অনুষ্ঠানকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর শেখ হাসিনার এই প্রকাশ্য বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আওয়ামী লীগের পরবর্তী কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে। 

একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিমণ্ডলেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে। 

বেঙ্গল টাইমস পরিস্থিতির সর্বশেষ অগ্রগতি এবং ৫ আগস্টের অনুষ্ঠানের বক্তব্যের বিস্তারিত প্রকাশিত হলে তা পাঠকদের সামনে তুলে ধরবে।