হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ১০, ২০২৬

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার: রয়টার্স

By বেঙ্গল টাইমস ডেস্কঢাকা | ১০ জুলাই ২০২৬

IMG_6851

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেন, তিনি একা নন, নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও তাঁর সঙ্গে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।

শেখ হাসিনার ভাষায়, “আমি সবাইকে বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরব। তোমাদেরও একদিন ফিরতে হবে। সবাই মিলে আমরা আদালতে আত্মসমর্পণ করব।

”২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়ার পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দিলেন ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা।

এর আগে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিলেও সরাসরি সাক্ষাৎকার দেননি।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকিও রয়েছে। তবুও তিনি দেশে ফিরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।তিনি বলেন, “আমার দলের নেতা-কর্মীরা চরম নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। যদি মৃত্যু আসে, আমি চাই তা আমার নিজের দেশের মাটিতেই আসুক, যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন, যেখানে তাঁদের রক্ত ঝরেছে।”

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত নভেম্বরে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে।

তবে শেখ হাসিনা বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানায়, ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রায় ১,৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি হত্যার কোনো নির্দেশ দেননি। ভারত তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়।

বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানালেও তিনি রয়টার্সকে বলেন, “তারা আমাকে ফিরিয়ে নিতে চায়, আমাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বারবার ভারতকে চিঠি দিচ্ছে।

তবে আমি নিজেই যাব।”তিনি আরও বলেন, দেশে ফেরার বিষয়ে ঢাকা কিংবা অন্য কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে তাঁর কোনো আলোচনা হয়নি।শেখ হাসিনা বলেন, “গণতন্ত্র, ভোটাধিকার,

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং ন্যায়বিচার কোনো গোপন আলোচনার বিষয় নয়।”

আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করি। আমার মনে হয়, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেই মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে এই আদালত কতটা প্রহসনমূলক—আর আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই।”

কারাগারে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বিগ্ন নন বলে জানান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতেও বিভিন্ন সময়ে তাঁকে গ্রেপ্তার ও কারাবরণ করতে হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশত্যাগের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সেদিন তাঁর সরকারি বাসভবনের দিকে জনতা এগিয়ে আসছিল এবং জীবনহানির আশঙ্কা থেকেই তিনি দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, “যখন কোনো সরকার দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে, তখন ভুল হতেই পারে। কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়।

তবে একটি সরকারের ভালো-মন্দ বা ঠিক-বেঠিক বিচার করার অধিকার জনগণের। আমি সেই বিচারের ভার জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।

”সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আরও জানান, আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও

দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তিনি ইতোমধ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেছেন।

তিনি বলেন, “তারা হয়তো আমাকে সাজা দিয়েছে এবং আমি হয়তো নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করবে? আমরা যদি খারাপ কিছু করে থাকি, তবে জনগণকে সেটা সিদ্ধান্ত নিতে দিন।”

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।তবে শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্র কিংবা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।