রিজেন্টের সেই শাহেদ আবারও গ্রেপ্তার, পরোয়ানা জারি ছিল পল্লবী থানার মামলায়
By বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা, প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬
করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে ভুয়া কোভিড-১৯ পরীক্ষা, সনদ প্রদানসহ নানা প্রতারণার অভিযোগে আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে শাহেদ করিমকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির।
ওসি হাসান বাসির জানান, সাহেদের বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পল্লবী থানার অনুরোধে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ তাকে ইসিবি চত্বর থেকে আটক করে। পরবর্তীতে তাকে পল্লবী থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ চার বছর কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন শাহেদ।
তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অবৈধ অস্ত্র রাখা ও মানিলন্ডারিংসহ মোট ৩৫টি মামলা রয়েছে।
২০২০ সালের ৭ জুলাই উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট জব্দের পর শাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল র্যাব। সেই ঘটনার নয় দিন পর ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এ ছাড়া ২০১০ সালের একটি চেক জালিয়াতি মামলাতেও তার সাজা হয়েছিল।সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন ভুয়া স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতারণার মাধ্যমে শাহেদ প্রায় ১১ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাৎ করেছিলেন। চার বছর পর জামিনে মুক্ত হলেও পুরোনো মামলার পরোয়ানায় তাকে আবারও পুলিশি হেফাজতে যেতে হলো।