বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ফের ভাঙা হচ্ছে: অস্পষ্টতা নিয়ে বাড়ছে রহস্য
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক:
ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি আবারও ভাঙার কাজ চলছে। ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর যে ভাস্কর্যটি হামলার শিকার হয়ে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে ছিল, সেটি নতুন করে অপসারণ বা ভাঙার কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই ভাঙার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ বা গোষ্ঠীর পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।
অসমাপ্ত ভাস্কর্য ও দীর্ঘসূত্রতা
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী ঝিনাইদহের গর্ব বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মরণে ২০১২ সালে শহরের প্রবেশমুখে এই চত্বর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সে সময় স্থানীয় পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল করিম মিন্টু প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করেন ৩২ লাখ টাকা। দীর্ঘ টালবাহানার পর ২০১৬ সালে প্রকল্পের কিছু কাজ শুরু হলেও তা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।
দীর্ঘ সময় ধরে ভাস্কর্যটি অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। রহস্যময় ভাঙার কাজ
শুক্রবার দুপুরে শহরের টার্মিনাল এলাকায় দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক চত্বরের বেদীর অংশ ভেঙে টুকরোগুলো একটি পিকআপ ভ্যানে তুলছেন। অথচ ভাস্কর্যটির উপরের অংশ তখনও অক্ষত ছিল।
এই কাজটি কে বা কারা করছে, তার কোনো সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। পৌরসভা কর্তৃপক্ষও এর দায় নিচ্ছে না। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর জনরোষের শিকার হয়ে ভাস্কর্যটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
তবে বর্তমানে কারা এটি অপসারণ করছে বা ভাঙছে, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
এমনকি এই প্রকল্পের ফাইল সংক্রান্ত কোনো নথিপত্রও তিনি দেখেননি বলে জানান।পৌরসভার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার দাবি, প্রকল্পটিতে অন্তত ১১ লাখ টাকা খরচ হওয়ার পর কোনো এক অজানা কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর দীর্ঘ সময় সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
প্রশাসনের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাজেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, তিনিও বিষয়টি নিয়ে অবগত নন। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিভিন্ন কমিটির সভায় পরিত্যক্ত ভাস্কর্যের অংশ অপসারণের দাবি উঠেছিল।
জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা রয়েছে, ভবিষ্যতে সুবিধাজনক কোনো স্থানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি ভাস্কর্য সম্মানের সঙ্গে পুনরায় স্থাপন করার। মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বেগ, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার কামালুজ্জামান জানান, বিষয়টি তারা জানেন এবং দ্রুতই এ ব্যাপারে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বৈঠকে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। উল্লেখ্য, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের ধলাই সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হন তিনি। তার এই অবমাননাকর পরিস্থিতি ও ভাঙার কাজ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।