গরমে জ্বলছে গ্রাম, নিভেছে আলো: বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে ক্ষোভ, কোথাও কোথাও লোডশেডিং ১৭ ঘণ্টা!
By বিশেষ প্রতিনিধি, বেঙ্গল টাইমস, ঢাকা, ১৮ জুন, ২০২৬
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও বাড়েনি উৎপাদন। উল্টো বকেয়া বিল, জ্বালানি সংকট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের বড় তিনটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোডশেডিং পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
আর এই সংকটের প্রায় পুরো চাপ গিয়ে পড়ছে দেশের গ্রামাঞ্চলে। কোনো কোনো এলাকায় দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা, আবার কোথাও কোথাও ১৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।
ফলে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা দেখতে না পেরে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ছে।
সক্ষমতার অর্ধেক অব্যবহৃত, চাহিদা ও উৎপাদনে বিশাল ফারাক
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিবি) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও কয়েক দিন ধরে মাত্র সাড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা যাচ্ছে না।
বকেয়া বিলের পাহাড়, তীব্র জ্বালানি সংকট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে সক্ষমতার প্রায় অর্ধেকই অব্যবহৃত পড়ে আছে।
বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেলেও দিনের বেশির ভাগ সময় উৎপাদন থাকছে মাত্র ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে।
ফলে দৈনিক গড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গত মঙ্গলবার রাত ১২টায় দেশে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৭৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে।
কয়লা ও গ্যাসের সংকটে থমকে আছে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো
বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পিডিবির বর্তমান বকেয়া বিলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। বিশাল এই বকেয়ার কারণে কেন্দ্রগুলো জ্বালানি কিনতে পারছে না।
বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্র: প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বিল বকেয়া থাকায় কয়লা কিনতে না পেরে এক সপ্তাহ ধরে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে, যার ফলে উৎপাদন কমেছে ৬০০ মেগাওয়াট।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: কারিগরি ত্রুটির কারণে বাগেরহাটের এই কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় আরও ৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন কমেছে, যা চালু হতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগতে পারে।
বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র: দিনাজপুরের এই কেন্দ্রে কয়লা মজুত থাকার পরও ৪৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিপরীতে উৎপাদিত হচ্ছে গড়ে মাত্র ৩৫ মেগাওয়াট।
তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা হওয়ায় এবং উৎপাদন খরচ বেশি থাকায় পিডিবি এগুলোও সীমিত পরিসরে চালাচ্ছে।
বিশ্বকাপের আনন্দ মাটি, ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে যখন সারা দেশে উন্মাদনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই লোডশেডিং দর্শকদের আনন্দকে বিষাদে রূপ দিয়েছে।
জামালপুরের মাদারগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ বাবু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "খেলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ
পরই বিদ্যুৎ চলে যায়, আবার বিদ্যুৎ ফিরে আসতে আসতে ম্যাচ শেষ হয়ে যায়।"
নেত্রকোনার রাসেল আহমেদ জানান, তাঁর
এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না।
খেলা দেখার জন্য দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর যুব উন্নয়ন সমিতি চাঁদা তুলে ধারদেনা করে টিভি কিনলেও বিদ্যুতের অভাবে
তারা খেলা দেখতে পারছে না।