হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published আগস্ট ১, ২০২৬

এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক

By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস

IMG_8555

চট্টগ্রাম: দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ চট্টগ্রামে তাদের একের পর এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্রুপটির অন্তত ১১টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কাজ হারানো শ্রমিকরা দ্রুত কারখানাগুলো পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ শুক্রবার (৩১ জুলাই) থেকে কর্ণফুলী উপজেলার এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার কারখানার নোটিশ বোর্ডে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদসহ পরিবারের সদস্যরা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এ সময় থেকে ঋণ খেলাপিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।

গ্রুপের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আর্থিক সংকট, ব্যাংকিং জটিলতা এবং কাঁচামালের ঘাটতির কারণে কারখানাগুলোয় উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রায় এক মাস আগে থেকেই ধাপে ধাপে কারখানা বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ করে ছাঁটাই করা হয়।

বন্ধ হওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিল, চেমন ইস্পাত, গ্যালকো স্টিল, এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম অয়েল এবং একটি পশুখাদ্য কারখানাসহ আরও কয়েকটি শিল্প ইউনিট।

তবে বাঁশখালীতে অবস্থিত এস আলম গ্রুপের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রম এখনো চালু রয়েছে।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিক আবদুল মান্নান বলেন, হঠাৎ করেই ছাঁটাইয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘদিন কাজ করার পর এভাবে চাকরি হারিয়ে অনেক শ্রমিক পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

কারখানাটির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম বলেন, “কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষ কর্মরতদের বিদায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

কারখানার একটি সূত্র জানায়, শুধু এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজেই প্রায় ৭০০ স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। অন্য কারখানাগুলো মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ছিল, যা এখন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, কর্ণফুলীতে এস আলম গ্রুপের কারখানাগুলোর কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তবে এগুলো একদিনে নয়, পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় শ্রমিক নেতারা দ্রুত শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু অথবা ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্পখাত ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।