হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ৩, ২০২৬

রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত ২৯, আহত ৯০-এর বেশি

By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস, ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬

IMG_7777

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৯ জন নিহত এবং ৯০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় বহু ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দল নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।

শহরের অন্তত ৩৬টি স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। কিয়েভের মেয়র বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাজধানীতে এটি অন্যতম বড় হামলা। হামলার তীব্রতায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং বহু আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া এই হামলায় ৫৭০টি আকাশপথে হামলার অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে ছিল প্রায় ৫০০টি ড্রোন, পাশাপাশি ইসকান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি জিরকন হাইপারসনিক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র। জিরকন ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যবহৃত হলেও এবারের হামলায় তা স্থল লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, রাজধানীর বাসিন্দাদের জন্য এটি ছিল ‘আতঙ্কের এক রাত’। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি নয়তলা আবাসিক ভবন ধসে পড়ার পর জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এদিকে কিয়েভ মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমান হামলার সতর্কসংকেত (সাইরেন) বাজানোর পর প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে রাজধানী কিয়েভে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ও ভয়াবহ হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।