ইরানের সঙ্গে বড় সমঝোতার ইঙ্গিত রুবিওর, ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণ’ দাবি ওয়াশিংটনের।
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ঢাকা, ২৪ মে ২০২৬
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কা রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের আনুষ্ঠানিক অবসান টানতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির ঘোষণা রোববারের মধ্যেই আসতে পারে। তার দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ধারিত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে।
ভারত সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, “আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব হয়তো ইতিবাচক কোনো খবর শুনতে পারে।” তিনি জানান, সম্ভাব্য এই সমঝোতা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আর ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষম রাষ্ট্র হিসেবে হুমকি মনে করবে না—যেটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চেয়েছেন।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, আলোচনায় থাকা চুক্তির অংশ হিসেবে তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সীমিত বা বন্ধ করার বিষয়ে নমনীয় অবস্থানে যেতে পারে। যদিও চূড়ান্ত সমঝোতা ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে এখনও বিস্তারিত আলোচনা বাকি রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আরও কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং তা এখন আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্ভাব্য সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত রাখার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
তবে সম্ভাব্য এই চুক্তিকে ঘিরে মার্কিন রাজনীতির ভেতরেই মতভেদ দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পমপেও চুক্তির বিরোধিতা করে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার যেকোনো উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, তেহরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা দিলে তা ভবিষ্যতে আরও বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সমালোচনার জবাবে রুবিও বলেন, “এপিক ফিউরি” নামের অভিযানের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন এমন দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, যা অতীতের কোনো মার্কিন প্রশাসন দেখাতে পারেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের নৌ সক্ষমতা দুর্বল করা, দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া—যা সফলভাবেই বাস্তবায়িত হয়েছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের।