টানা বর্ষণে রাঙ্গামাটিতে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: সাজেকে আটকা ৪ শতাধিক পর্যটক
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস
রাঙ্গামাটি: টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মাইনী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সড়ক তলিয়ে গিয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়েছেন প্রায় ৪০০ পর্যটক।
বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা
স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধিতে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা ও লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এছাড়া নানিয়ারচরের কেঙ্গেলছড়ি এলাকা এবং মহালছড়ি সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় সব ধরনের দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা যেমন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন, তেমনি পর্যটকরাও পড়েছেন বিপাকে।
এর আগে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন পাহাড়ধসের ঝুঁকি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। তবে প্রশাসনের এই নির্দেশনার আগেই সেখানে অবস্থানরত পর্যটকরা এখন ফিরতি পথ খুঁজে পাচ্ছেন না।
পর্যটকদের অবস্থা ও মানবিক উদ্যোগ
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানান, সড়কের পানি নেমে গেলে আটকে পড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানবিক দিক বিবেচনায় কটেজ মালিকরা পর্যটকদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত রুম ভাড়া নিচ্ছেন না বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।পাহাড়ধসের আশঙ্কাঅতিবৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো ধসের খবর পাওয়া গেছে। সড়কগুলোর অনেক অংশের মাটি সরে গিয়ে ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এবং বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চলে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দারা।নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন পর্যটকদের পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।