বৃহস্পতিবার থেকে বাড়বে বৃষ্টির তীব্রতা, পুরো জুলাইজুড়েই বর্ষণের পূর্বাভাস
By Bengal Times Desk
ঢাকা: দেশের আবহাওয়ায় আবারও বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া অনুকূল আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে জুলাই মাসের বাকি সময়জুড়েই থেমে থেমে মাঝারি, ভারী এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।আবহাওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েকদিনের বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পর এখন বর্ষা তার স্বাভাবিক রূপে ফিরতে শুরু করেছে।
এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব বিভাগেই বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে। বিশেষ করে সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রংপুর, বরিশাল, খুলনা এবং ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।
মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরেও এর প্রভাব শক্তিশালী। এ কারণে আকাশ অধিকাংশ সময় মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত হতে পারে।
কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ের মধ্যে অতিভারী বৃষ্টিও হতে পারে, যা স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।আবহাওয়াবিদদের মতে, টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকায় নগরবাসীকে ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।
অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ যাত্রীদের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক পরিবহনে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। পাহাড়ি জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভারী বর্ষণের কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রয়োজন হলে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।অন্যদিকে, টানা বর্ষণের ফলে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা এবং কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃষ্টিপাত আমন ধানের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত বর্ষণ হলে সবজি, পাট, ভুট্টা ও অন্যান্য মৌসুমি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কৃষকদের জমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি ক্ষেত নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াজনিত এই পরিস্থিতির প্রভাব নৌপথ ও সমুদ্রবন্দরেও পড়তে পারে। নদীবন্দরগুলোতে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সময় ছোট নৌযানকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সর্বশেষ আবহাওয়ার সতর্কবার্তা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপাতের কারণে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ, বিশুদ্ধ পানি পান এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা রাখা হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, জুলাই মাসের বাকি সময়জুড়ে আবহাওয়ার এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নাগরিকদের নিয়মিত আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্ষাকালের এই নতুন বৃষ্টিপাত একদিকে যেমন তীব্র গরম থেকে স্বস্তি দেবে, অন্যদিকে অতিবৃষ্টির কারণে জনজীবন, কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে। তাই পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।