হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ৩০, ২০২৬

আশুগঞ্জে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, প্রায় ২০ কিলোমিটার যানজট

By বেঙ্গল টাইমস প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ৩০ জুন ২০২৬

IMG_7674

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার নামে ইজারা নেওয়া বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের পরিবর্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সীমান্তে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (৩০ জুন) কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচির কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে আশুগঞ্জ উপজেলার চরসোনারামপুর গ্রামের বাসিন্দারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। পরে বেলা ১২টার দিকে তারা আশুগঞ্জ গোলচত্বরে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। অবরোধ চলে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত।

অবরোধ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে এবং অনেকে সড়কে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এতে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে মেঘনা সেতু পেরিয়ে ভৈরব পর্যন্ত এবং পূর্ব পাশে বেরতলা এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার করে মোট প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

ইজারা ভৈরবে, বালু উত্তোলনের অভিযোগ আশুগঞ্জেজানা গেছে, চলতি বছরের ৩০ মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর, লুন্দিয়া ও টুকচানপুর মৌজার মেঘনা নদীর

বালুমহাল মেসার্স শফিক ট্রেডার্স-এর অনুকূলে ইজারা দেয় এবং ওয়ার্ক অর্ডার জারি করে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ইজারাভুক্ত এলাকায় পর্যাপ্ত বালু না থাকায় ইজারাদার প্রতিদিন ভোর থেকে একাধিক ড্রেজার বসিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চরসোনারামপুর এলাকার তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলন করছেন।

নদীভাঙনের শঙ্কায় স্থানীয়রা

বিক্ষোভকারীদের দাবি, চরসোনারামপুর গ্রামে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস, যাদের অধিকাংশই মৎস্যজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা এই জনপদে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে গ্রামের বসতভিটা, শ্মশান, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা শিতল চন্দ্র দাস বলেন, “নদী আমাদের জীবিকার প্রধান উৎস। কিন্তু অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে এখন সেই নদীই আমাদের ঘরবাড়ি কেড়ে নিচ্ছে।

যেখানে ইজারা দেওয়া হয়নি, সেখানে দিন-রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আমরা দ্রুত এই কার্যক্রম বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”স্থানীয়রা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।