হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ২৭, ২০২৬

পুলিশের ‘শুটার’ তালিকায় বড় গলদ: চট্টগ্রামের ৪৬ চিহ্নিত অস্ত্রধারী ও ফেনীর প্রধান আসামিরাই গায়েব।

By বিশেষ প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস, প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬ | সকাল ১০:৫৪

58c197c8-c144-49b8-8271-b36f3edfb488

ঢাকা ও চট্টগ্রাম: দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদর দপ্তর ও পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) প্রণীত ‘প্রশিক্ষিত শুটার ও অস্ত্রধারী’ তালিকার নির্ভুলতা ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশের সরকারি তালিকায় চট্টগ্রাম মহানগর ও বিভাগের সাত জেলায় ১০৯ জনের নাম থাকলেও, বেঙ্গল টাইমসের অনুসন্ধানে অন্তত আরও ১৩৯ জন চিহ্নিত অস্ত্রধারীর তথ্য উঠে এসেছে, যাদের নাম ওই তালিকায় নেই।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম নগরে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নেওয়া ৪৬ জন চিহ্নিত অস্ত্রধারীর একজনের নামও পুলিশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।

সরকারি তালিকা ও বাস্তবতার ফারাক

পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) সারাদেশে মোট ২৪৩ জন ‘শুটার’-এর তালিকা প্রস্তুত করেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য রাখা হয়েছে ১০৯ জনের নাম। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এই তালিকার বড় ধরনের অমিল রয়েছে।

  •  চট্টগ্রাম মহানগর: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) আওতাধীন এলাকায় সরকারি তালিকায় রয়েছে মাত্র ৯ জনের নাম। অথচ অনুসন্ধানে অন্তত ৮৫ জন সক্রিয় অস্ত্রধারীর তথ্য পাওয়া গেছে।
  •  ফেনী জেলা: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় প্রকাশ্যে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনায় থাকা ফেনী থেকে তালিকায় রয়েছে মাত্র ৫ জন। অথচ অনুসন্ধানে অন্তত ৩৩ জন চিহ্নিত অস্ত্রধারীর নাম উঠে এসেছে, যাদের অনেককে সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • অন্যান্য জেলা: চট্টগ্রাম জেলায় অন্তত ১১ জন এবং নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও একাধিক চিহ্নিত অস্ত্রধারীর নাম সরকারি তালিকায় নেই বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।

ধরাছোঁয়ার বাইরে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা

অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, তালিকায় না থাকা কিংবা তালিকায় নাম থাকার পরও ছোট সাজ্জাদ, ইসমাইল হোসেন ওরফে টেম্পু, মোবারক হোসেন ওরফে ইমন এবং মো. রায়হানের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, তাদের কেউ কেউ কারাগারে থেকেও কিংবা দূর থেকে চাঁদাবাজি, সশস্ত্র তৎপরতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু অপরাধী নতুন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর ছত্রছায়ায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

বিশেষজ্ঞের উদ্বেগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন,

“তালিকাই যদি ভুল হয়, তাহলে সমস্যার শুরু সেখান থেকেই। অসম্পূর্ণ তালিকা দিয়ে পরিচালিত পুলিশি অভিযানও অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এতে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্ত অপরাধীরা সহজেই আইনের আওতার বাইরে থেকে যাবে। এ ধরনের ত্রুটিপূর্ণ তালিকা প্রণয়নের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।”

পুলিশের বক্তব্য

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমীনুর রশীদ বলেন, শনাক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।

অনেকেই কারাগারে থাকায় প্রাথমিক তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত না-ও হতে পারে। অন্যদিকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘শুটার’ তালিকা একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং নতুন তথ্যের ভিত্তিতে এটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।

জনমতের প্রশ্ন

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের মতে, প্রকৃত অস্ত্রধারীদের বাদ দিয়ে প্রস্তুত করা অসম্পূর্ণ তালিকার মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ দেশের বর্তমান অপরাধ পরিস্থিতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

উৎস: বিশেষ অনুসন্ধান ও পুলিশি প্রতিবেদন।