‘স্বৈরাচার পতনের পর গুপ্তবাহিনী ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছে’ — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যাদের রাজপথে দেখা যায়নি, তারা ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছে।
তিনি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ঐক্য অটুট রেখে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিস্ট সরকার পতন আন্দোলনে শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সম্মানে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।শরিক দলগুলোর নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
“আমরা অতীতে একসঙ্গে ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও একসঙ্গে থাকব। আপনাদের ছেড়ে যাওয়ার কোনো যুক্তি নেই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ধৈর্য, সংলাপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নেই।
মতপার্থক্য থাকলেও তা বিভেদের কারণ হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের সময় যারা রাজপথে অনুপস্থিত ছিল, তারাই এখন আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করার চেষ্টা করছে।
তাদের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করলেই মানুষ বুঝতে পারে আমি কাদের কথা বলছি।”তারেক রহমানের দাবি, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পুরো সময়ে ওই গোষ্ঠীর কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল না।
“আমরা তাদের অনেক খুঁজেছি। কিন্তু ৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পর এই গুপ্তবাহিনী ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখতে এসব গুপ্তদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে,” বলেন তিনি।রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোই স্বৈরাচারের সময় জনগণের সামনে সংস্কারের রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল।
তার ভাষ্য, জনগণ ওই ৩১ দফার পক্ষেই রায় দিয়েছে এবং এটি এখন জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে।তিনি বলেন,
“৩১ দফা আমরা সবাই মিলে প্রণয়ন করেছি। তাই এর বাস্তবায়নেও সমমনা রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থনীতি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাত ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকার মানুষের স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে এবং শতভাগ সফল না হলেও জনগণ এর সুফল অনুভব করতে শুরু করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
পরে তিনি তাদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এ সময় জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-এর
চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরামসহ শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।