হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ৩০, ২০২৬

অনলাইন জুয়ায় ৫ বছর, ম্যাচ ফিক্সিংয়ে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড; সংসদে পাস জুয়া প্রতিরোধ আইন

By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক ঢাকা | ১ জুলাই, ২০২৬

IMG_7693

দেশে জুয়া, অনলাইন বেটিং এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধ দমনে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে জুয়া প্রতিরোধ বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। নতুন আইনে অনলাইন জুয়ায় জড়িতদের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অনলাইন বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়। পরে কণ্ঠভোটে সেগুলো নিষ্পত্তি করে বিলটি পাস করা হয়। এর মাধ্যমে ১৮৬৭ সালের ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ বাতিল করে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন আইন কার্যকর করার পথ তৈরি হলো।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারবেন।এছাড়া অনলাইন জুয়ায় অংশগ্রহণ, পরিচালনা বা

সহায়তা করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড কিংবা এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন বেটিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের ক্ষেত্রেও, যদিও এ অপরাধে অর্থদণ্ডের সর্বোচ্চ সীমা এক কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি, বেটিং, বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব অপরাধের জন্য ১৪ ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

শুধু জুয়া খেলা নয়, অনলাইনে জুয়ার আয়োজন, পরিচালনা, সহায়তা কিংবা বিজ্ঞাপন প্রচার করলেও শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।বিলের ওপর আলোচনায় কয়েকজন সংসদ সদস্য অনলাইন জুয়ার বিস্তার এবং এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, শিশু-কিশোরদের মধ্যে অনলাইন জুয়ার আসক্তি বাড়ছে, যা পরিবার ও সমাজের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

তবে আইনটির কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগও উঠে আসে। বিরোধী দলের সদস্যরা তল্লাশি, জব্দ এবং আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়াই ওয়েবসাইট, অ্যাপ, সার্ভার, ডোমেইন বা আইপি ঠিকানা ব্লক করার ক্ষমতা অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তাদের মতে, যথাযথ আইনি সুরক্ষা না থাকলে ভবিষ্যতে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়ার প্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় আদালতের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করলে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের ডিজিটাল আলামত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তিনি জানান, তল্লাশি ও জব্দের ক্ষমতা দেশের প্রচলিত অন্যান্য ফৌজদারি আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংসদে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে জুয়া প্রতিরোধ বিল-২০২৬ পাস হয়। সরকার আশা করছে, নতুন আইন কার্যকর হলে অনলাইন জুয়া, অবৈধ বেটিং চক্র এবং ক্রীড়াঙ্গনে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের

মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।