হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ২৪, ২০২৬

হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে, চার মাসের সর্বনিম্নে দাম।

By বিজনেস ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমসঢাকা | ২৪ জুন ২০২৬

IMG_7390

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরেছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম টানা নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে এবং তা গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে।

বুধবার (২৪ জুন) সকাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৬ ডলার ৭১ সেন্টে লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম নেমে এসেছে ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার ৮৫ সেন্টে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উভয় সূচকই বর্তমানে মার্চ মাসের পর সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে।

দেশীয় মুদ্রায় তেলের মূল্য

বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি মার্কিন ডলার প্রায় ১২৩ টাকা), আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯ হাজার ৪৩৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি লিটার অপরিশোধিত তেলের মূল্য দাঁড়ায় আনুমানিক ৫৯ টাকা ৩০ পয়সা।

অন্যদিকে, ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮ হাজার ৯৬০ টাকা, যা প্রতি লিটারে প্রায় ৫৬ টাকা ৩৫ পয়সার সমান।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের এই মূল্য কেবল অপরিশোধিত তেলের কাঁচামাল মূল্য। এর সঙ্গে পরিশোধন ব্যয়, পরিবহন খরচ, আমদানি শুল্ক, কর এবং বিপণন ব্যয় যোগ হওয়ার পরই স্থানীয় বাজারে জ্বালানি তেলের চূড়ান্ত খুচরা মূল্য নির্ধারিত হয়।

কেন কমছে তেলের দাম?

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস পাওয়ার ইঙ্গিত এবং ইরানি তেল রপ্তানির ওপর কিছু বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে।

এ ছাড়া লেবাননের পরিস্থিতির উন্নতি এবং পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোর ধীরে ধীরে গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করাও বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা বাড়িয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় নিয়মিত তেল পরিবহন শুরু হওয়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমেছে। ফলে যুদ্ধকালীন ঝুঁকির কারণে যে অতিরিক্ত মূল্য যোগ হয়েছিল, তা এখন ধীরে ধীরে বাজার থেকে কমে যাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন অগ্রগতি

সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে ওমান ও ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো ধরনের নতুন ট্রানজিট ফি আরোপের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরে আটকে থাকা একাধিক সুপারট্যাঙ্কার ইতোমধ্যে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

পাশাপাশি যুদ্ধবিরতির পর সেখানে অবস্থানরত হাজারো নাবিক এবং শত শত বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

সামনে কী হতে পারে?

বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক এবং পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমতে পারে এবং

যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ের কাছাকাছি ফিরে যেতে পারে। তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি বলে বাজার এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তাই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা আগামী কয়েক সপ্তাহেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা রাখবে।