চলতি বছর হচ্ছে না সিটি নির্বাচন, অক্টোবরে ইউপি ভোটের প্রস্তুতি
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস
ঢাকা: দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বছর কোনো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
তবে তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে আগামী অক্টোবর মাসেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে কমিশন।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অক্টোবরে ইউপি নির্বাচনের রূপরেখানির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে দেশের বৃহৎ অংশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিগত সময়ের ন্যায় এবারও ধাপে ধাপে এই নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই মাঠপর্যায়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে। আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কমিশন।
কেন আটকে গেল সিটি নির্বাচন?
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান,
বেশ কয়েকটি প্রধান সিটি কর্পোরেশনের সীমানা সম্প্রসারণ ও ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের জটিল কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। পাশাপাশি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সংস্কারের জোরালো দাবি উঠেছে, যার অংশ হিসেবে নির্বাচনী বিধিমালায় কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করতে আরও কয়েক মাস সময়ের প্রয়োজন। তাই আইনি বাধ্যবাধকতা ও যৌক্তিক কারণেই ২০২৬ সালের মধ্যে আর কোনো সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ নেই।বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণনির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, তাড়াহুড়ো করে সিটি নির্বাচন আয়োজন না করে বরং তৃণমূলের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগে সম্পন্ন করা হলে তা মাঠপর্যায়ে গণতান্ত্রিক ধারা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে। তবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নমুক্ত রাখতে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।