হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ১১, ২০২৬

২৪০ কোটি টাকার আমানত কেলেঙ্কারির অভিযোগ: নওগাঁয় এনজিও পরিচালকের বাসা ঘেরাও, পরে পুলিশের হেফাজতে

By নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ | ১১ জুলাই ২০২৬

IMG_8083

নওগাঁয় প্রায় ২৪০ কোটি টাকার আমানত ফেরতের দাবিতে সমতা ও নেসডো এনজিওর শতাধিক গ্রাহক মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। এ সময় তারা সমতা এনজিওর প্রধান কার্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শাহিনুর রহমান শাহীনের বাসা ঘেরাও করেন।

পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শাহিনুর রহমান শাহীনকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার খলিশাকুড়ী এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে নওগাঁ সদর থানা পুলিশের সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন।পুলিশ জানায়, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল শাহিনুর রহমান শাহীন বাসায় নেই। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি বাসার ভেতরেই অবস্থান করছেন। এরপর পুলিশ ও গ্রাহকদের একটি প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে শাহিনুর রহমান শাহীন জানান, সমতা এনজিওতে গ্রাহকদের প্রায় ১৮০ কোটি টাকা এবং নেসডো এনজিওতে আরও প্রায় ৬০ কোটি টাকা আমানত রয়েছে। তার দাবি, ২০২৫ সালে এনজিওগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি গ্রাহকদের আমানত ও লভ্যাংশ পরিশোধ করতে পারেননি। তবে প্রতিষ্ঠান পুনরায় সচল করতে পারলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে অর্থ পরিশোধ করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

অন্যদিকে, ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, ২০২৫ সাল থেকেই আমানতের লভ্যাংশ দেওয়া বন্ধ করে দেন পরিচালক। পরে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। জানিয়েছে।

এ ঘটনায় একাধিক গ্রাহক মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং তিনি কিছুদিন কারাগারেও ছিলেন।গ্রাহকদের ভাষ্য অনুযায়ী, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর শাহীন প্রথমে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বকেয়া লভ্যাংশের অর্ধেক পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। 

পরে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময় চান। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিক্রম হলেও কোনো অর্থ পরিশোধ না করায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা তার কার্যালয় ও বাসা ঘেরাও করেন।

খবর পেয়ে নওগাঁ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নূরে আলম সিদ্দিকী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধানের আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে শাহিনুর রহমান শাহীনকে আটক করে নওগাঁ সদর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা দ্রুত তাদের আমানতের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। 

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র