নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, ভিনির জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল: কার রেটিং কেমন?
By খেলা ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস, ঢাকা, ২৫ জুন ২০২৬
দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র। প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার দিনে জয় দিয়েই তার প্রত্যাবর্তন উদযাপন করল ব্রাজিল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
তবে ম্যাচজুড়ে আলো ছড়িয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ডের জোড়া গোলের সঙ্গে মাতেউস কুনিয়ার একটি গোল যোগ হয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বড় জয় তুলে নেয় সেলেসাওরা। অন্যদিকে, ম্যাচের শেষদিকে মাঠে নেমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটান নেইমার।
আক্রমণভাগ: ভিনির জাদু, আবেগঘন নেইমার প্রত্যাবর্তন
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র
ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়। শুরু থেকেই স্কটিশ রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন।
গোলরক্ষককে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় প্রথম গোলটি করেন। পরে একটি গোল ভিএআরের কারণে বাতিল হলেও দুর্দান্ত এক হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন। হ্যাটট্রিকের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে রেটিং আরও বেশি হতে পারত।
মাতেউস কুনিয়া
পুরো ম্যাচে আক্রমণভাগে সক্রিয় ছিলেন। প্রথমার্ধে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও গোল পাননি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সহজ এক ফিনিশিংয়ে নিজের নাম গোলদাতার তালিকায় তুলে নেন।
নেইমার জুনিয়র
ম্যাচের শেষ ১৪ মিনিট মাঠে ছিলেন। অল্প সময়েই ২৪ বার বল স্পর্শ করেন, তিনটি সুযোগ তৈরি করেন এবং একটি শট নেন। দীর্ঘদিন পর ফেরার কারণে তার চিরচেনা গতি ও ধার কিছুটা কম মনে হলেও মাঠে নামাটাই ছিল ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের মুহূর্ত।
মধ্যমাঠ: গিমারাইসের দারুণ নিয়ন্ত্রণ
ব্রুনো গিমারাইস
মধ্যমাঠের আসল নিয়ন্ত্রক ছিলেন তিনি। তার নিখুঁত ক্রস থেকে আসে ভিনিসিয়ুসের দ্বিতীয় গোল। পাশাপাশি কুনিয়ার গোলেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। পুরো ম্যাচজুড়ে পাসিং, বল নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ তৈরিতে ছিলেন অনবদ্য।
কাসেমিরো
রক্ষণাত্মক দায়িত্ব দারুণভাবে পালন করেছেন। ডি-বক্সের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ একটি ট্যাকল করে দলকে বিপদমুক্ত করেন। তৃতীয় গোলের সূচনাতেও ছিল তার চমৎকার থ্রু পাস।
লুকাস পাকেতা
রক্ষণ ও আক্রমণ—দুই ক্ষেত্রেই সমান কার্যকর ছিলেন। ভিনিসিয়ুসের হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করে দেওয়া একটি সুযোগ ছিল তার অন্যতম সেরা মুহূর্ত।
রায়ান
বুদ্ধিদীপ্ত এক অ্যাসিস্ট করেছেন এবং বল পায়ে প্রতিবারই স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখেছেন। তার গতি ও সৃজনশীলতা ব্রাজিলের আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রক্ষণভাগ ও গোলবার: নিরাপদ আলিসন, ভাগ্যবান দানিলো
আলিসন বেকার
প্রথমার্ধে খুব বেশি কাজ না থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে গোল হজম থেকে বাঁচান। ক্লিনশিট ধরে রাখতে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস
ম্যাচের শুরুতেই স্কটল্যান্ডের একটি বিপজ্জনক আক্রমণ নস্যাৎ করেন। একের বিপক্ষে এক লড়াইয়ে আধিপত্য দেখানোর পাশাপাশি পাসিংয়েও ছিলেন নির্ভরযোগ্য।
দানিলো
রক্ষণে মোটামুটি ভালো খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে একটি কঠিন ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখেন। পরিস্থিতি ভিন্ন হলে লাল কার্ডও দেখতে হতে পারত।
মার্কিনিওস
স্কটল্যান্ডের আক্রমণভাগ খুব বেশি চাপ সৃষ্টি করতে না পারায় তুলনামূলক স্বস্তির ম্যাচ কাটিয়েছেন। পাসিংয়ে ছিলেন নির্ভুল।
দগলাস সান্তোস
বাম প্রান্তে রক্ষণাত্মক দায়িত্বের পাশাপাশি আক্রমণেও সহায়তা করেছেন।
কয়েকবার ওভারল্যাপ করে সামনে উঠে গিয়ে উইঙ্গারদের সমর্থন জুগিয়েছেন।
ম্যাচ সংক্ষেপ
ব্রাজিল ৩-০ স্কটল্যান্ড
- গোলদাতা:⚽ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র
- (২)⚽ মাতেউস কুনিয়া (১)
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নেইমারের প্রত্যাবর্তন এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। সামনে শিরোপার লড়াইয়ে সেলেসাওদের অন্যতম শক্তি হয়ে উঠতে পারেন নেইমার—