হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ৮, ২০২৬

পদোন্নতির পর বরিশালের নতুন স্বাস্থ্য পরিচালককে ঘিরে উত্তেজনা, ড্যাবের বিক্ষোভে অবরুদ্ধ অফিস

By নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গল টাইমস:

IMG_8004

পদোন্নতি পেয়ে বরিশাল বিভাগের নতুন স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে যোগদানের পরপরই ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামানকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তাকে ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর একাংশ তার কার্যালয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও অবরুদ্ধ করে রাখে।

পরে সিনিয়র চিকিৎসকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বরিশাল নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে মঙ্গলবার একই কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা।আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ডা. মনিরুজ্জামান তৎকালীন সরকারের সমর্থিত বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন।

তাদের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা কার্যক্রমেও বাধা দিয়েছিলেন।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তারা তাকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের পদ থেকে অপসারণের দাবি জানান।শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক এবং ড্যাব-সংশ্লিষ্ট নেতারা বলেন, বিতর্কিত অতীত রয়েছে—এমন কাউকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বহাল রাখা উচিত নয়। তাদের ভাষ্য, দাবি না মানা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।

তবে আন্দোলনের পেছনে ড্যাবের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রয়েছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংগঠনটির নেতারা।

তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।অন্যদিকে সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন নবনিযুক্ত বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, “আমি ছাত্রদলের রাজনীতি করতাম এবং ড্যাবের সঙ্গেও সম্পৃক্ত আছি।

তৎকালীন প্রশাসনের নির্দেশে কিছু সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাধ্য হয়েছিলাম। আমি কোনো ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর নই।”তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পর বুধবার আবারও একদল চিকিৎসক এসে তাকে অবরুদ্ধ করেন।

বিষয়টি নিয়ে সিনিয়র চিকিৎসকদের উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তৎকালীন উপপরিচালক ডা. মনিরুজ্জামানকে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়।

পরে গত ৫ জুলাই তাকে পদোন্নতি দিয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার নিয়োগের বিরুদ্ধে একাংশ চিকিৎসকের আন্দোলন শুরু হয়।ঘটনার পর স্বাস্থ্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।