হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ১৩, ২০২৬

প্রকৃতি অপেক্ষা করতে পারে, পরীক্ষা নয়! তাই ছাতা নয়, লাইফ জ্যাকেট নিয়ে পরীক্ষা দিতে আসুন! আবহাওয়া নয়, রুটিনই শেষ কথা!” রুটিনের কাছে বন্যাও পরাজিত!

By সম্পাদকীয়, বেঙ্গল টাইমস।

IMG_8145

প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই, নাকি শিক্ষার্থীর সঙ্গে সরকারের?

একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু পরীক্ষা নেওয়া নয়, পরীক্ষার্থীদের জন্য ন্যায্য ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও। কিন্তু ভয়াবহ বন্যা, জলাবদ্ধতা এবং দুর্যোগের মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত শিক্ষা প্রশাসনের সংবেদনশীলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

হাজার হাজার শিক্ষার্থী যখন কোমরসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে বাধ্য হয়, কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করে, কেউ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বই খোলার সুযোগও পায় না—তখন রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল তাদের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, রুটিন যেন মানুষের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।শিক্ষামন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন থেকেই যায়—এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করতে বাধা কোথায় ছিল?

একটি বা কয়েকটি পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে কি পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ত? নাকি প্রশাসনিক অনমনীয়তাই মানবিকতার ওপর প্রাধান্য পেল?একটি পরীক্ষা কেবল প্রশ্নপত্রের উত্তর নয়; এটি সমান সুযোগের প্রতীক। কিন্তু যখন একজন শিক্ষার্থী শুকনো পরিবেশে পরীক্ষা দেয়, আর আরেকজন বন্যার পানি পেরিয়ে ভেজা কাপড় ও মানসিক চাপ নিয়ে পরীক্ষার হলে বসতে বাধ্য হয়, তখন সেই পরীক্ষাকে সমান সুযোগের পরীক্ষা বলা কঠিন।

রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা থাকা প্রয়োজন, কিন্তু সেই দৃঢ়তা যদি বাস্তবতার প্রতি অন্ধ হয়ে যায়, তবে তা নেতৃত্ব নয়—অনমনীয়তা। দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই দায়িত্বশীল প্রশাসনের পরিচয়। শিক্ষার্থীদের কষ্টকে উপেক্ষা করে কেবল নির্ধারিত সূচি রক্ষা করাই যদি সাফল্যের মানদণ্ড হয়, তবে সেই সাফল্য মানবিকতার বিচারে প্রশ্নবিদ্ধ।

এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাধারণ পরিবারের সন্তানরা। যাদের ঘর পানিতে ডুবে গেছে, বই ভিজে গেছে, বিদ্যুৎ ছিল না, পড়ার পরিবেশ ছিল না—তাদের কাছ থেকে একই মানের ফলাফল প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়। একটি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা কেবল তার ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়; এটি নীতিনির্ধারণের ব্যর্থতারও প্রতিফলন।বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন আসবে। তাই জাতীয় পরীক্ষা পরিচালনায় দুর্যোগভিত্তিক বিকল্প পরিকল্পনা, নমনীয় নীতিমালা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা গড়ে তোলা এখন আর বিলাসিতা নয়—অপরিহার্য প্রয়োজন।রুটিন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শিক্ষার্থীর জীবন, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের শক্তি কেবল নিয়মে নয়, মানুষের প্রতি সহমর্মিতায়। শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে যদি প্রশাসনিক সূচির নিচে স্থান দেওয়া হয়, তবে ইতিহাস সেই সিদ্ধান্তকে কঠোরভাবেই মূল্যায়ন করবে।