হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ৮, ২০২৬

ন্যাটোর নতুন মহাপরিকল্পনা: দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পে ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ

By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস

06b63b0d-35e1-4717-9966-3741567fcc55

আঙ্কারা: ইউরোপের আকাশসীমা সুরক্ষায় নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে ন্যাটো। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য বৃটেনসহ ১২টি দেশ ৫ হাজার কোটি (৫০ বিলিয়ন) ডলারের একটি মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ‘ডিপ প্রিসিশন স্ট্রাইক’ নামের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটি বর্তমানে সম্মেলনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

প্রকল্পের লক্ষ্য ও সক্ষমতা

বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (ডাউনিং স্ট্রিট) সূত্রে জানা গেছে, ন্যাটোর এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের লক্ষ্য হলো শত্রু শিবিরের গভীরতম অবস্থানে নিখুঁত আঘাত হানা। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র ৩০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হলেও, ভবিষ্যতে এর আওতা ১,২৫০ মাইল পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের দশকের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি মূলত শত্রুপক্ষের সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হবে।

সম্মেলনের প্রেক্ষাপট ও স্টারমারের ভূমিকা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের শেষ ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দেওয়া বৃটেনের স্যার কিয়ের স্টারমার এই প্রকল্প নিয়ে এক ডজন ন্যাটো নেতার সাথে বিশেষ বৈঠক করবেন। প্রতিরক্ষা খাতে বৃটেনের ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০০ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি থাকলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের কারণে ন্যাটো সদস্যদের ওপর প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর বিশাল চাপ রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ইউরোপের সুরক্ষায় ন্যাটো সদস্যদের নিজেদের জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করতে হবে।

রাশিয়া-ইউক্রেন উত্তেজনা

এই সম্মেলনে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। বৃটিশ সরকারের তথ্যমতে, সম্প্রতি রুশ যুদ্ধবিমান ও সামরিক নৌ-তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিত্র দেশগুলোর আকাশসীমা রক্ষায় ন্যাটো দেশগুলোকে ইতিমধ্যে ৭০০ বারেরও বেশি ফাইটার জেট মোতায়েন করতে হয়েছে।

সম্মেলন নিয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, রাশিয়া আঙ্কারার এই ঘটনাপ্রবাহ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ন্যাটো থেকে ইউক্রেন নতুন নতুন অস্ত্র পেলেও রাশিয়ার লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান থামবে না। এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ হামলা মোকাবিলায় ন্যাটো মিত্রদের কাছে দ্রুত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন।বিশ্লেষকদের মতে, দূরপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা ইউক্রেনসহ পুরো ইউরোপের নিরাপত্তা সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।