জামিনে মুক্তির পর জেলগেটে পঞ্চমবার গ্রেপ্তার ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগ নেতাকে।
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক
ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল পাঠানকে জামিনে কারামুক্ত হওয়ার পরপরই কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটক থেকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পরে নতুন একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে জেলগেট থেকে তাকে পঞ্চমবারের মতো গ্রেপ্তার করা হলো বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী ও পরিবার।
আইনজীবী সেকান্দার আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (১২ জুলাই) রাতে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর রাত প্রায় ১০টার দিকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটক থেকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ রাসেল পাঠানকে আটক করে। সোমবার তাকে নতুন একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।রাসেল পাঠান ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন মামলায় প্রায় সাড়ে ছয় মাস ধরে কারাগারে ছিলেন।
তিনি ময়মনসিংহ নগরীর সানকিপাড়া এলাকার বাসিন্দা।রাসেলের আইনজীবীর দাবি, গত ৬ জুলাই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রিট পিটিশন নম্বর ৮৫৮১-এর শুনানি শেষে নির্দেশ দেন যে, সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা ছাড়া রাসেল পাঠানকে যেন নতুন করে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা না হয়।
তার অভিযোগ, ওই নির্দেশনার পরও নতুন মামলা দিয়ে তাকে পুনরায় আটক করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর কাশর এলাকার বাসিন্দা মো. রাকিব ১২ জুলাই রাতে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট নগরীর বাতিরকল মোড় এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, হাতবোমার বিস্ফোরণ এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনায় রাসেল পাঠানসহ অভিযুক্তরা জড়িত ছিলেন।
রাসেল পাঠানের মা জোবেদা খাতুন অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও তার ছেলেকে পুরোনো ঘটনার ভিত্তিতে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তিনি এটিকে আদালতের নির্দেশনার প্রতি অবজ্ঞা এবং পরিবারের প্রতি অন্যায় আচরণ বলে দাবি করেন।অন্যদিকে, আইনজীবী সেকান্দার আলী বলেন, একই ব্যক্তিকে বারবার হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি।
বিশেষ করে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকার পর এমন পদক্ষেপ বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল হাসান বলেন, পূর্বের মামলাগুলোতে জামিন পেলেও নতুন করে দায়ের হওয়া বিস্ফোরক আইনের মামলায় রাসেল পাঠানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিস্ফোরক আইনে কোনো সাধারণ নাগরিক মামলা করতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করতে পারেন।
ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।