হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ১১, ২০২৬

নাইজেরিয়ায় সেনাবাহিনীর বড় অভিযান, ৩০০-এর বেশি সশস্ত্র ডাকাত নিহত

By আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বেঙ্গল টাইমস | ১১ জুলাই ২০২৬

IMG_8086

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক সামরিক অভিযানে ৩০০ জনেরও বেশি সশস্ত্র ডাকাত নিহত হয়েছেন বলে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পরিচালিত এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জামফারা, কাতসিনা, কেব্বি, সোকোতো এবং নাইজার অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন দুর্গম বনাঞ্চলে সশস্ত্র ডাকাতদের আস্তানা লক্ষ্য করে স্থল ও আকাশপথে যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ ইউনিট, বিমান বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অংশ নেয়।

সামরিক কর্মকর্তারা জানান, অভিযানগুলোতে ডাকাত চক্রের একাধিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। সংঘর্ষে ৩০০ জনের বেশি সশস্ত্র সদস্য নিহত হওয়ার পাশাপাশি অনেকেই পালিয়ে যায়। এ সময় বিপুল পরিমাণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, গোলাবারুদ, যোগাযোগ সরঞ্জাম ও শতাধিক মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে,

যা ডাকাত দলগুলো চলাচল ও হামলার কাজে ব্যবহার করত।নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র ডাকাত চক্র—স্থানীয়ভাবে যাদের “ব্যান্ডিট” বলা হয়—গ্রামাঞ্চলে হামলা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, গবাদিপশু লুট এবং সাধারণ মানুষ হত্যার মতো অপরাধে জড়িত। এসব গোষ্ঠীর কারণে কয়েক বছর ধরে অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরমভাবে অবনতি হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানের লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীর কার্যক্রম দুর্বল করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা।

সেনাবাহিনী বলেছে, অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই অভিযানগুলো নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলেও, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পুরোপুরি নির্মূল করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযানের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং অপহরণ ও সশস্ত্র হামলার ঘটনা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তবে মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, দীর্ঘদিনের সহিংসতায় বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষের পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনাও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

নাইজেরিয়া সরকার সম্প্রতি দেশটির উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে। কর্তৃপক্ষের আশা, ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে অপহরণ, ডাকাতি এবং সহিংস অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।