কক্সবাজার সৈকতে হঠাৎ মিনি টর্নেডোর তাণ্ডব, উড়ে গেল অর্ধশতাধিক ছাতা-চেয়ার, আতঙ্কে পর্যটকদের দৌড়ঝাঁপ
By কক্সবাজার প্রতিনিধি:
পর্যটন নগরী কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে হঠাৎ আঘাত হেনেছে একটি মিনি টর্নেডো। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল পৌনে তিনটার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় সৈকতে অবস্থানরত শত শত পর্যটকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আকস্মিক ঘূর্ণিবাতাসে সবাই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলের দিকে হঠাৎ করেই আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। এরপর সমুদ্রের দিক থেকে প্রবল বেগে ঘূর্ণিবাতাস ধেয়ে এসে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সুগন্ধা পয়েন্টের পরিবেশ লণ্ডভণ্ড করে দেয়।
বাতাসের তীব্রতায় পর্যটকদের ব্যবহারের জন্য রাখা অর্ধশতাধিক ছাতা ও চেয়ার উপড়ে গিয়ে ছিটকে পড়ে। অনেক ছাতা বাতাসে উড়ে যেতে দেখা যায়। সৈকতে থাকা পর্যটকদের ভাষ্য, কোনো ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই প্রচণ্ড গতির বাতাস এসে আঘাত হানে।
মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ ধুলাবালু ও অন্ধকারে ঢেকে গেলে সবাই আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থানে ছুটতে শুরু করেন। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো গুরুতর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।সুগন্ধা পয়েন্টের ব্যবসায়ীরা জানান, সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সৈকতে পর্যটকদের ভিড় ছিল বেশ ভালো। কিন্তু হঠাৎ এই মিনি টর্নেডোর কারণে ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
প্রবল বাতাসে অনেক চেয়ার ও ছাতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুমে সাগরে লঘুচাপ, স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী মেঘমালা কিংবা জলস্তম্ভ (ওয়াটার স্পাউট) তৈরির কারণে উপকূলবর্তী এলাকায় এ ধরনের স্বল্পস্থায়ী ঘূর্ণিবাতাস বা মিনি টর্নেডো সৃষ্টি হতে পারে।
ঘটনার পরপরই সৈকতে দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পুলিশ ও লাইফগার্ড সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। একই সঙ্গে পর্যটকদের আতঙ্কিত না হয়ে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতার সঙ্গে সমুদ্রে নামার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।