মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: ইরানি বন্দরের পথে জাহাজে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দক্ষিণ লেবানন খালি করার নির্দেশ ইসরাইলের।
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস৩১ মে, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার বিস্ফোরণ ঘটেছে। একদিকে ওমান উপসাগরে ইরানি বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রারত একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা সামনে এসেছে, অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় নতুন করে উচ্ছেদ নির্দেশ জারি করেছে ইসরাইল। ফলে গোটা অঞ্চলজুড়ে বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
ওমান উপসাগরে মার্কিন হামলা, সাগরে ভাসছে মালবাহী জাহাজ
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ওমান উপসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ইরানের একটি বন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়া গাম্বিয়ার পতাকাবাহী মালবাহী জাহাজ ‘এমভি লিয়ান স্টার’ (M/V Lian Star)-কে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, জাহাজটি ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ অমান্য করে যাত্রা অব্যাহত রেখেছিল। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্যমতে, জাহাজটিকে থামানোর জন্য ২০ বারেরও বেশি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু সেসব নির্দেশনা উপেক্ষা করায় যুদ্ধবিমান থেকে একটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যা সরাসরি জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে আঘাত হানে।
হামলার পর জাহাজটি সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে সাগরে ভাসতে থাকে। তবে এ ঘটনায় কোনো নাবিক হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি মার্কিন কর্তৃপক্ষ কিংবা জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিল থেকে ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল করার লক্ষ্যে কঠোর নৌ-অবরোধ কার্যকর করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন যুদ্ধসচিব Pete Hegseth জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে।
দক্ষিণ লেবাননে নতুন উচ্ছেদ নির্দেশ, জোরদার বিমান হামলা
অন্যদিকে লেবানন সীমান্তেও সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে ইসরাইল। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু লেবাননের অভ্যন্তরে আরও গভীর সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দেওয়ার পর দেশটির সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের সাতটি গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ত্যাগ করে উত্তর দিকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করায় তারা ব্যাপক সামরিক প্রতিক্রিয়া শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থাপনা, অস্ত্রাগার ও সন্দেহভাজন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
লেবাননের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী নোউয়াফ সেলিম ইসরাইলের পদক্ষেপকে “পোড়ামাটি নীতি” বলে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কূটনৈতিক সমাধান এখনও অনিশ্চিত
সংঘাতের এই ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির মধ্যেই ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিরাপত্তা সংলাপ চলছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে গেলেও দুই পক্ষের অবস্থানগত পার্থক্যের কারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ-অবরোধের কঠোর প্রয়োগ এবং অন্যদিকে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে গোটা অঞ্চল একটি বৃহত্তর ও দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।